৮ বিভাগে ১৫ তলা ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মিত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জটিল ক্যান্সার চিকিৎসার সামগ্রিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাজধানী ঢাকার ওপর দূরদূরান্তের প্রান্তিক রোগীদের অতিরিক্ত নির্ভরতা ও চাপ কমিয়ে আনতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।
গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ—এই আটটি প্রধান বিভাগীয় শহরের সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ১৫ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতাল ভবনগুলোর নির্মাণকাজ জোর গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত সমন্বিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদরোগের জটিল চিকিৎসারও একক কেন্দ্র হিসেবে সমন্বিত আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশেষ করে জটিল ক্যান্সার রোগীদের ভোগান্তি কমাতে এসব হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যান (PET-CT scan) এবং ডে-কেয়ার বেডের সমন্বিত সুবিধা স্থাপনের পূর্ণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতাল পুরোপুরি কার্যকর হলে অঞ্চলভেদে প্রান্তিক রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর ঢাকামুখী হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
সংসদে দেশের সামগ্রিক ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল’ দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ও বিশেষায়িত সরকারি ক্যান্সার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। তবে এর পাশাপাশি সারা দেশের প্রায় সব কটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত সামরিক হাসপাতালগুলোতে অনকোলজি বা ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য পৃথক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট সার্বক্ষণিকভাবে সেবা দিচ্ছে।
বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের ভূমিকা তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বর্তমানে দেশের ২৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও পৃথক ক্যান্সার ইউনিট কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি হাসপাতাল ও আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর স্কয়ার, এভারকেয়ার, ল্যাবএইড ও ইউনাইটেড হাসপাতালের মতো শীর্ষ করপোরেট ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত ও আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার বিশেষায়িত উইং পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দেশের আপামর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত, আধুনিক, দ্রুত এবং সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর নীতি গ্রহণ করেছে। জটিল রোগব্যাধির উন্নত চিকিৎসাসেবা শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন সমন্বিত হাসপাতালগুলো নির্মাণের মূল লক্ষ্য।