পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ সেনাসহ ১৫ জন নিহত

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ সেনাসহ ১৫ জন নিহত
হামলাস্থল ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার প্রতীকী চিত্র। (ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক রক্তক্ষয়ী আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় ১২ জন সেনাসদস্যসহ অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া ডানা আইএসপিআর (ISPR) এক দাপ্তরিক বিবৃতির মাধ্যমে এই হতাহতের ঘটনাটি সুনিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, আফগান সীমান্তসংলগ্ন ট্যাঙ্ক জেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথভাবে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চৌকিতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যবর্তী গভীর রাতে এই সন্ত্রাসী হামলাটি সংঘটিত হয়। হামলাকারীরা প্রাথমিক সংঘর্ষে নিরাপত্তা বলয় ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে বিস্ফোরকভর্তি একটি দ্রুতগতির গাড়ি নিয়ে চৌকির বাইরের সীমানা প্রাচীরে সজোরে ধাক্কা দেয়। বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পক্ষে অত্যন্ত শোক প্রকাশ করে বলা হয়, "দেশের ১২ জন অসম সাহসী সেনাসদস্য, ২ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এবং বন বিভাগের ১ জন সরকারি কর্মকর্তাসহ মোট ১৫ জন বীর সন্তান জাতীয় সুরক্ষায় চূড়ান্ত আত্মত্যাগ স্বীকার করে শাহাদাত বরণ করেছেন।"

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত ও বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলার পরপরই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে এর দায় স্বীকার করেছে স্থানীয় তালেবান গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের চারজন প্রশিক্ষিত আত্মঘাতী সদস্য এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকারকে উৎখাত করে নিজেদের কঠোর চরমপন্থী আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে ২০০৭ সাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র সহিংসতা চালিয়ে আসছে টিটিপি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জঙ্গি গোষ্ঠীটির সহিংস ও আত্মঘাতী তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

মন্তব্য করুন