রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়, কড়া নিরাপত্তা

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়, কড়া নিরাপত্তা
বঙ্গভবনের মূল ফটকের সামনে নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশি ব্যারিকেড। (ছবি: সংগৃহীত)

জাতীয় প্রধানঃ স্বাস্থ্যগত তীব্র জটিলতা ও শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পরপরই রাজধানী ঢাকার বঙ্গভবনের সামনে জমায়েত হয়েছেন অসংখ্য উৎসুক জনতা ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো বঙ্গভবন ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বঙ্গভবনের সামনের সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গভবনের মূল প্রবেশদ্বারের (মেইন গেট) সামনে বেশ কয়েকটি ব্যারিকেড বসিয়ে সাধারণ পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা। প্রবেশপথের ভেতরে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার কারণে সংবাদকর্মীরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দ্বিতীয় গেটের সামনের অংশে অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট কয়েকটি সাঁজোয়া ও প্রশাসনিক যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো গাড়িকে বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পুরো মোড় ও বঙ্গভবনের চারপাশ ঘিরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক পাহারা দিতে দেখা গেছে।

বঙ্গভবনের সামনে ভিড় করা যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ বলেন, "সংবাদে খবর পেলাম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করেছেন। মতিঝিলে ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলাম, কৌতূহল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি দেখার জন্য।"

এর আগে আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। পদত্যাগপত্রে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি নিজের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যাসহ ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগের কথা তুলে ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কথা জানান।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ মেনে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বহাল ছিলেন। তবে আন্দোলনকারীদের লাগাতার পদত্যাগের দাবি ও শারীরিক জটিলতার প্রভাবে অবশেষে আজ পদ ছাড়লেন তিনি।

মন্তব্য করুন