পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কী কী সুবিধা পাবেন?

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কী কী সুবিধা পাবেন?
সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। (ছবি: সংগৃহীত)

জাতীয় প্রধান: শারীরিক ও মানসিক তীব্র অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাঁর এই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। তবে পদ ছাড়লেও দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী আমৃত্যু মাসিক পেনশন, চিকিৎসা সুবিধাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রাধিকার ও সামাজিক সুবিধা পাবেন সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান।

বাংলাদেশে প্রচলিত ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ এবং ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫’ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী—কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে ন্যূনতম ছয় মাস দায়িত্ব সম্পাদন করার পর পদত্যাগ করলে কিংবা মেয়াদ সমাপ্তি ঘটালে, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সর্বশেষ প্রাপ্য মাসিক মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে নিয়মিত অবসর ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতির নির্ধারিত মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে অবসরের পর মো. সাহাবুদ্দিন প্রতি মাসে নিয়ম মেনে ৯০ হাজার টাকা করে সরকারি অবসর ভাতা (পেনশন) প্রাপ্ত হবেন।

আইনানুসারে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কিছু দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সুবিধাও ভোগ করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং একজন অ্যাটেনডেন্ট (সাহায্যকারী)।

  • বার্ষিক সরকার-নির্ধারিত নির্দিষ্ট অঙ্কের দাপ্তরিক খরচ।

  • একজন পূর্ণাঙ্গ পূর্ণমন্ত্রীর সমপরিমাণ চিকিৎসাসুবিধা।

  • রাষ্ট্রীয় ও সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে যোগদানের স্বার্থে বিনামূল্যে সরকারি পরিবহন সুবিধা।

  • বাসভবনে একটি সরকারি টেলিফোন সংযোগ এবং নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে বিল মওকুফের সুবিধা।

  • একটি সম্মানজনক ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট’ (Diplomatic Passport)।

  • দেশের ভেতর ভ্রমণকালীন সময় সরকারি সার্কিট হাউস কিংবা রেস্টহাউসে কোনো ভাড়া ছাড়া নিখরচায় অবস্থান করার বিশেষ সুবিধা।

আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, চিকিৎসাসুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট বহন এবং সরকারি সার্কিট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধা সাবেক রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী বা স্ত্রীও একইভাবে উপভোগ করতে পারবেন।

তা ছাড়া, অবসর ভাতা গ্রহণের যোগ্যতাসম্পন্ন সাবেক কোনো রাষ্ট্রপতি চাইলে মাসিক পেনশনের পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিকও (গ্র্যাচুইটি) গ্রহণ করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে প্রাধিকার অর্জনের এক মাসের মধ্যে নিজের লিখিত সিদ্ধান্তের কথা জানাতে হবে।

যেসব ক্ষেত্রে বাতিল হতে পারে এসব সুবিধা:

আইনে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে যেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতির এই সমস্ত প্রাধিকার বাতিল বলে গণ্য হবে। যেমন—

১. রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে সরকারের সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন বা অন্য সুবিধা গ্রহণ করলে।

২. আদালতের বিচারে নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে।

৩. অথবা অসাংবিধানিক পন্থায় অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন বলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসলে।

মন্তব্য করুন