পুলিশি নির্যাতনের আবেদন তালিকাভুক্ত না করার খবর 'মিথ্যা': প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ণ
পুলিশি নির্যাতনের আবেদন তালিকাভুক্ত না করার খবর 'মিথ্যা': প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। (ছবি: এএনআই)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের চলমান ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় মামলা বা আবেদন তালিকাভুক্ত করতে (শুনানির দিন ধার্য করতে) তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

আইনি সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি দাবি করেন যে, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ম মেনে কোনো আনুষ্ঠানিক রিট পিটিশনই দায়ের করা হয়নি।

দুই দিন আগে, ২২ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্যাতনের ভিডিও সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনতে চেয়েছিলেন আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র। সে সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, "আমাদের সময় নষ্ট করবেন না এবং আপনার সময়ও নষ্ট করবেন না। ভিডিওর প্রতি আমাদের কোনো আগ্রহ নেই, এগুলো দেখার সময় আমাদের নেই।"

প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে আবেদন শুনতে বা তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ঠিক দুই দিন পর আজ ২৪ জুলাই শুক্রবার সেই খবরের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, গত দুই দিনে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর একটি বক্তব্য বাজারে ছড়ানো হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আজ শনিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পাতাও জমা পড়েনি। ওটা কেবল একটি স্মারকলিপি ছিল, যা ওই মিশ্র বা অন্য কেউ পাঠিয়েছিলেন। আমি কীভাবে একটি সাধারণ স্মারকলিপিকে সংবিধিবদ্ধ রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করতে পারি? অথচ সংবাদমাধ্যম কোনো যাচাই-বাছাই না করেই দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন শুরু করে দিল।"

প্রবীণ আইনজীবী শোয়েব আলম যখন অন্য একটি জরুরি বিষয়ের শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন, ঠিক তখনই প্রধান বিচারপতি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পাওয়া তাঁর ভূমিকা নিয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র ব্যানারে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। গত ২২ জুলাই সংসদ ভবন অভিমুখে আন্দোলনকারীদের পদযাত্রায় পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও পেলেট গান ব্যবহার করে।

এর আগে গত মে মাসে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্য তরুণ সমাজকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল, যেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের ইঙ্গিত করে বলেছিলেন—"কিছু তরুণ আরশোলার মতো ঘুরে বেড়ায়, যাদের কোনো কাজ বা পেশাগত জায়গা নেই।" তাঁর এই 'আরশোলা' মন্তব্যের ওপর ভর করেই কটাক্ষ হিসেবে গড়ে ওঠে 'ককরোচ জনতা পার্টি', যা বর্তমানে ভারত সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন