গাজা ইস্যুতে পাকিস্তানি শিল্পীর তীব্র সমালোচনার মুখে মালালা

গাজা ইস্যুতে পাকিস্তানি শিল্পীর তীব্র সমালোচনার মুখে মালালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর দীর্ঘকালীন গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের ‘রহস্যজনক নীরবতা’ ও ‘দায়সারা’ ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী শেহজাদ রায়ের এক সাক্ষাৎকারে এই সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন মালালা, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে শেহজাদ রায় সরাসরি মালালার দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যখন ইউক্রেন বা অন্যান্য পশ্চিমা ইস্যু আসে, তখন মালালা যতটা সোচ্চার হন, গাজার মুসলিম শিশুদের আর্তনাদে তাকে ততটা জোরালো ভূমিকায় দেখা যায়নি। নেটিজেনদের মতে, মালালার প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ধীর এবং শব্দ চয়নে তিনি ছিলেন অতিমাত্রায় সতর্ক।

সমালোচনার জবাবে মালালা যেসব যুক্তি দিয়েছেন, সেগুলোকে ‘হাস্যকর’ ও ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। 

মালালা দাবি করেছেন, তিনি একটি অনুষ্ঠানে ‘প্রতীকী পিন’ পরে গাজা ইস্যুতে সংহতি জানিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, যেখানে প্রতিদিন শত শত শিশু প্রাণ হারাচ্ছে, সেখানে একজন নোবেলজয়ীর কাছ থেকে কেবল একটি ‘পিন’ পরা বা সামাজিক মাধ্যমে দায়সারা পোস্ট কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।

ইসরাইলের নাম সরাসরি নিতে বা তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে মালালার কুণ্ঠাবোধ অনেককেই বিস্মিত করেছে। অনেকে মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বের পুরস্কার ও সমর্থন হারানোর ভয়েই তিনি গাজা ইস্যুতে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতি অবলম্বন করছেন।

মালালার এই সাক্ষাৎকারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, মালালা এখন আর সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি নন, বরং তিনি পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি পুতুলে পরিণত হয়েছেন।

তার দেওয়া এই সাফাই গাজাবাসীর প্রতি তার দীর্ঘদিনের উদাসীনতাকে আড়াল করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন