চ্যাটজিপিটিকে ‘সুপার অ্যাপ’ বানানোর মেগা প্রজেক্ট ওপেনএআইয়ের

প্রকাশ: সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
চ্যাটজিপিটিকে ‘সুপার অ্যাপ’ বানানোর মেগা প্রজেক্ট ওপেনএআইয়ের

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক : বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) খাতে নতুন এক বিপ্লবের সূচনা করতে যাচ্ছে সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই (OpenAI)। বিশ্বখ্যাত ও বহুল ব্যবহৃত চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র মূল কাঠামোতে এক বিশাল পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপরেখা সাজিয়েছে মার্কিন এই টেক জায়ান্ট। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চ্যাটজিপিটির একটি সম্পূর্ণ নতুন, আধুনিক এবং যুগান্তকারী সংস্করণ বিশ্ববাসীর জন্য উন্মোচন করা হতে পারে। নতুন এই সংস্করণে চ্যাটজিপিটি কেবল ব্যবহারকারীর প্রশ্নের গতানুগতিক উত্তর দেওয়ার চ্যাটবট হয়ে থাকবে না, বরং এটি একাধারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড় বড় কোড বা প্রোগ্রামিং লেখা, জটিল ডেটা বিশ্লেষণ করা এবং মানুষের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের নিখুঁত ‘ডিজিটাল পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হবে।

আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ ও ‘ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি আপডেট, টেকক্রাঞ্চ গ্যাজেট রিভিউ ও সিলিকন ভ্যালি ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে চ্যাটজিপিটিকে সুপার অ্যাপ বানানোর নেপথ্য কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি বাজার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ (TechCrunch)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে ওপেনএআইয়ের এই মেগা প্রজেক্টের তথ্যটি প্রথম সামনে আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই মূলত চ্যাটজিপিটিকে একটি শক্তিশালী ‘সুপার অ্যাপ’ (Super App)-এ রূপ দিতে চাইছে। এর সহজ অর্থ হলো—স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের এক প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপের ভেতরেই পাওয়া যাবে দুনিয়ার সব ধরনের প্রয়োজনীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উন্নত সেবা।

বর্তমানে চ্যাটজিপিটি মূলত কথোপকথন বা টেক্সটভিত্তিক চ্যাটিং সেবা দিলেও নতুন আপডেটে ব্যবহারকারীরা বহুমাত্রিক কাজ করার স্বাধীনতা পাবেন। ওপেনএআইয়ের পণ্য ও প্ল্যাটফর্ম বিভাগের প্রধান থিবো সোটিও (Thibaut Souyris) এই বিষয়ে আলোকপাত করে বলেছেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি সার্বজনীন এআই ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যেখানে প্রতিটি সাধারণ বা পেশাদার ব্যবহারকারীর নিজস্ব একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী থাকবে। এই শক্তিশালী সহকারীটি মানুষের ব্যক্তিগত দৈনন্দিন জীবন ও জটিল করপোরেট কর্মক্ষেত্র—দুই জায়গাতেই চমত্কার সমন্বয় ও নিখুঁত সাহায্য করতে পারবে।”

ওপেনএআইয়ের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা হলো, চ্যাটজিপিটিকে এমন একটি কেন্দ্রীয় হাবে (Central Hub) পরিণত করা, যেখান থেকে ব্যবহারকারীরা ওপেনএআইয়ের অন্যান্য স্বনামধন্য সাব-সার্ভিসগুলোও অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ওপেনএআইয়ের নিজস্ব কোড লেখার সেবা ‘কোডেক্স’ (Codex)।

বিশ্লেষকদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী করপোরেট ও ব্যবসায়িক গ্রাহকদের (Enterprise Users) কাছে নিজেদের একক আধিপত্য আরও শক্তিশালী করাই ওপেনএআইয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বাণিজ্যিক রাজস্ব বা আয় বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট পথ খুঁজছে। কারণ, অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব শেয়ারবাজারে (Stock Market) আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত বা আইপিও (IPO) ছাড়ার আগে নিজেদের একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং টেকসই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রমাণ করার এক বিশাল বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে ওপেনএআইয়ের ওপর।

চ্যাটজিপিটিকে কেন্দ্র করে এই ধরণের সুপার অ্যাপের পরিকল্পনা অবশ্য একদম নতুন নয়, গত বছর থেকেই প্রযুক্তি পাড়ায় এ নিয়ে কানাঘুষা চলছিল। চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল যে, ওপেনএআই তাদের বিচ্ছিন্ন বা আলাদা আলাদা এআই প্রজেক্টগুলোকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসতে কাজ করছে। আর এই কারণেই প্রতিষ্ঠানটি তাদের কিছু স্বাধীন ও একক প্রজেক্টের গুরুত্ব সাময়িকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। যেমন—টেক্সট থেকে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও তৈরির অত্যন্ত আলোচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবা ‘সোরা’ (Sora)-র মতো প্রজেক্টকে এখন ওপেনএআই তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে একটি পার্শ্ব উদ্যোগ বা চ্যাটজিপিটির ব্যাকঅ্যান্ড ফিচার হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

টেক বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআইয়ের এই মহাপরিকল্পনা সফল হলে চ্যাটজিপিটি আর শুধু একটি চ্যাটবট থাকবে না; এটি হয়ে উঠতে পারে মানুষের সার্বক্ষণিক ডিজিটাল সঙ্গী। তবে নতুন সংস্করণে ঠিক কী কী চোখ ধাঁধানো সুবিধা থাকবে, সেগুলোর কত শতাংশ সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে (Free Version) পাবেন এবং কবে এটি সবার স্মার্টফোনে রোল-আউট করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ও গোপন তথ্য প্রকাশ করেনি ওপেনএআই।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন