শাকিরার ‘এভারগ্রিন’ লুকের গোপন রহস্য উন্মোচন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ
শাকিরার ‘এভারগ্রিন’ লুকের গোপন রহস্য উন্মোচন

বিনোদন ডেস্ক:ফুটবল বিশ্বকাপ আর কলম্বিয়ান পপ কুইন শাকিরা—এই দুটি নাম যেন সময়ের বিবর্তনে এক অবিচ্ছেদ্য সমীকরণে রূপ নিয়েছে। ২০০৬ সালে জার্মানির বার্লিনে ‘হিপস ডোন্ট লাই’ (Hips Don't Lie), ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘ওয়াকা ওয়াকা’ (Waka Waka), ২০১৪ সালে ব্রাজিলে ‘লা লা লা’ (La La La) এবং চলমান ২০২৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে ‘ডাই ডাই’ (Dai Dai)—সুদীর্ঘ দুটি দশক ধরে বিশ্বমঞ্চে সুর ও নৃত্যের জাদু ছড়াচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ২০ বছরের চারটি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের ছবি পাশাপাশি কোলাজ করে পোস্ট করছেন ভক্তরা। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, দুই দশক পার হলেও শাকিরার চেহারা, ওজনের ভারসাম্য ও স্টেজ পারফরম্যান্সের এনার্জি কীভাবে হুবহু একই রকম রয়ে গেছে?

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তারকা কথন, সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল ও আন্তর্জাতিক বিনোদন খতিয়ান’ এবং ‘নিউট্রিশন সায়েন্স, ডায়েট প্ল্যানিং ও ওয়ার্কআউট ট্র্যাকিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে শাকিরার এভারগ্রিন লুকের পুঙ্খানুপুঙ্খ ভেতরের খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

শাকিরার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ট্রেইনার এবং কোরিওগ্রাফার অ্যানা কাইসার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শাকিরার এই চিরযৌবনা ফিটনেসের প্রধান কন্ডিশন হলো তাঁর খাবার টেবিলের কঠোর ডিসিপ্লিন। শাকিরা তাঁর দিনের শুরুটা করেন অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার দিয়ে। তাঁর সকালের নাস্তায় সাধারণত থাকে ডিমের অমলেট ও প্রচুর পরিমাণে তাজা সবুজ শাকসবজি। দুপুরে তিনি গ্রহণ করেন ভারী প্রোটিনসমৃদ্ধ তাজা সালাদ এবং রাতের খাবারে থাকে স্রেফ হালকা সেদ্ধ সবজি ও সহজে হজম হয় এমন লিন প্রোটিন। শত ব্যস্ততার মাঝেও দিনের মধ্যভাগে ক্ষুধা লাগলে তিনি কখনোই কোনো প্রক্রিয়াজাত বা জাঙ্ক ফুডের দিকে হাত বাড়ান না; বরং পছন্দের তালিকায় রাখেন বিভিন্ন তাজা ফলমূল, গরম ভেজিটেবল স্যুপ বা হাই-প্রোটিণ স্মুদি।

অ্যানা কাইসারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাকিরার পেশি সুগঠিত রাখার আরেকটি বড় চালিকাশক্তি হলো সঠিক সময়ে সঠিক প্রোটিন ইনটেক করা। শাকিরা প্রতিদিন তাঁর ভারী শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউট শেষ করার ঠিক ৪৫ মিনিটের একটি নির্দিষ্ট উইন্ডোর মধ্যে উচ্চমানের প্রোটিন গ্রহণ করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নিয়মটি শরীরের অতিরিক্ত মেদ দ্রুত পুড়িয়ে পেশিকে চর্বিহীন ও শক্তিশালী করতে দারুণ সাহায্য করে।

এছাড়াও ওজনের কাঁটা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে বড় ম্যাজিকটি হলো তাঁর খাওয়ার সময়সূচি। শাকিরা কখনো একবারে পেট পুরে অনেক খাবার খান না। পরিবর্তে, তিনি প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর খুব অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর স্ন্যাক্স বা খাবার গ্রহণ করেন। এর ফলে শরীরের গ্লুকোজ ও শক্তির মাত্রা সবসময় স্থিতিশীল থাকে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ বিপাকপ্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকে, যা শরীরে বাড়তি ফ্যাট বা চর্বি জমার সুযোগই দেয় না।

তবে শুধু সঠিক খাদ্যাভ্যাসই নয়, বিনোদন বিশ্লেষক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, শাকিরার স্ট্যামিনার মূল ভিত্তি লুকিয়ে আছে তাঁর বৈচিত্র্যময় ওয়ার্কআউট রুটিনে। তিনি নিয়মিত হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং (HIIT), ড্যান্স-কার্ডিও এবং বিশেষ করে তাঁর বিশ্বখ্যাত সিগনেচার ‘বেলি ড্যান্স’ (Belly Dance) অনুশীলন করেন। এই বেলি ড্যান্স শরীরের কোর মাসল বা পেটের ভেতরের পেশিকে অবিশ্বাস্য রকম শক্তিশালী করে তোলে, বডি ব্যালেন্স বাড়ায় এবং কনসার্টের মঞ্চে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা হাই-এনার্জি পারফর্ম করার জন্য ফুসফুসের প্রয়োজনীয় স্ট্যামিনা তৈরি করে। দুই দশকের ব্যবধানেও তাই ২০০৬ সালের শাকিরা আর ২০২৬ সালের শাকিরার চেহারার তারুণ্যে কোনো বড় অমিল খুঁজে পাওয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন ভক্তরা, যার নেপথ্যে রয়েছে কেবলই বছরের পর বছর ধরে বজায় রাখা এক কঠোর ও নিখুঁত জীবনযাপন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন