বিশ্বকাপে কোন দলের সমর্থক বাংলাদেশের কোন তারকা

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপে কোন দলের সমর্থক বাংলাদেশের কোন তারকা

বিনোদন প্রতিবেদক:গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতেই প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশজুড়ে রঙের উৎসব ও মেরুকরণ শুরু হয়ে গেছে। দেশের প্রত্যন্ত অলিগলি থেকে শুরু করে কর্পোরেট সোশ্যাল মিডিয়ার দেয়াল—সবখানেই এখন কেবলই প্রিয় দল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ, স্বাস্থ্যকর বিতর্ক আর রাজকীয় উন্মাদনা। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের এই বাঁধভাঙা আবেগ থেকে মোটেও দূরে নন রূপালী পর্দা ও ড্রয়িংরুমের চেনা শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ব্যস্ত শিডিউল সামলেও ওপার বাংলা ও এপার বাংলার জনপ্রিয় সব মুখ নিজেদের পছন্দের দল নিয়ে মেতে উঠেছেন।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তারকা কথন, সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল ও গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড খতিয়ান’ এবং ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডস, ফুটবল ফ্যানবেজ ও শোবিজ উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে বাংলাদেশের তারকাদের ফুটবলীয় সমর্থনের পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশন সফল করতে ঢালিউড ও নাট্যপাড়ার একঝাঁক হেভিওয়েট তারকা কোমর বেঁধে নেমেছেন। বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে মেগাস্টার মোশাররফ করিম, ওপার বাংলার গ্লোবাল আইকন জয়া আহসান, রোমান্টিক কিং জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, ওটিটি ও সিনেমার ট্রেইলব্লেজার আফরান নিশো, জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর, ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী এবং চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

নিজের পছন্দের দল নিয়ে বিশেষ খতিয়ানে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব বলেন, “ব্রাজিলের চিরাচরিত ‘ জোগো বোনিতো’ বা সাম্বা ফুটবলের মধ্যে একটা সহজাত ছন্দ আছে। ওদের খেলার ধরণটাই আলাদা, যা আমাকে মুগ্ধ করে। তাই দলটির জন্য সবসময়ই মন থেকে ভালোবাসা আসে।” একই ধরনের আবেগ প্রকাশ করে চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, “ফুটবলের কালো মানিক ও সর্বকালের অন্যতম সেরা জাদুকর পেলের দেশ হলো ব্রাজিল। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাথে ওদের নান্দনিক খেলা দেখে বড় হয়েছি। এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রিয় দল ভালো কিছু উপহার দেবে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।”

অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির ভক্তদের তালিকাটা শোবিজ পাড়ায় বেশ দীর্ঘ ও হেভিওয়েট। এই আলবিসেলেস্তে শিবিরে রয়েছেন শক্তিমান অভিনেতা জাহিদ হাসান, দুই বাংলার জনপ্রিয় চঞ্চল চৌধুরী, রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা, গ্ল্যামার কুইন পরীমনি, নাট্যজগতের রানি মেহজাবীন চৌধুরী, আব্দুন নূর সজল, মামনুন ইমন, পূজা চেরী, খাইরুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, জায়েদ খান ও তানজিকা আমিনসহ একঝাঁক তারকা।

নিজের দীর্ঘদিনের পারিবারিক সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করে ‘হাওয়া’ খ্যাত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “আমার জীবনের একমাত্র প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। মূলত যখন থেকে ফুটবল খেলা বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই দিয়াগো ম্যারাডোনার জাদুতে এই দলের প্রতি আমার এক অন্ধ ভালোবাসা জন্মেছে। শুধু আমি নই, আমার পুত্র শুদ্ধও আর্জেন্টিনার কট্টর ডাই-হার্ড ফ্যান। বাবা-ছেলে দুজনেরই চাওয়া—এবারের বিশ্বকাপে প্রিয় দল সাফল্যের ধারা বজায় রাখুক।”

একই সুরে ম্যারাডোনা ও মেসির প্রতি নিজের নিখাদ ভালোবাসা প্রকাশ করে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা বলেন, “ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা বিশ্ববাসীকে যুগে যুগে নান্দনিক ও পাসিং ফুটবল উপহার দিয়ে আসছে। আমি যেমন ম্যারাডোনার ফুটবলের ফ্যান, তেমনি লিওনেল মেসির পায়ের জাদুতেও মোহাবিষ্ট। ২০২৬-এর এই আসরে প্রিয় দল বিশ্বরেকর্ড গড়ুক, এটাই মন থেকে চাই।” অভিনেতা সজলও যোগ করেন, শৈশবে ম্যারাডোনার অতিমানবীয় সব গোল দেখার স্মৃতিই তাঁকে আজীবন আর্জেন্টিনার ভক্ত বানিয়ে রেখেছে।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এই চিরাচরিত ল্যাটিন দ্বৈরথ ও মেরুকরণের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ইউরোপীয় ঘরানার দলের পতাকা হাতে নিয়েছেন এই প্রজন্মের জনপ্রিয় চিত্রনায়িক সিয়াম আহমেদ। তাঁর পছন্দের দল হলো ইউরোপীয় জায়ান্ট স্পেন।

চিরাচরিত ধারার বাইরে নিজের ভিন্নধর্মী চয়েস নিয়ে সিয়াম আহমেদ এক এক্সক্লুসিভ খতিয়ানে বলেন, “আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই সাধারণত ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান। তবে ছোটবেলা থেকেই স্পেনের নিখুঁত পাসিং গেম এবং ‘টিকি-টাকা’ (Tiki-Taka) কৌশল আমার খুব ভালো লাগে। ওদের ফুটবল ডমিনেশন উপভোগ করার মতো। এবার উত্তর আমেরিকার মাঠে কোন দল কাপ জিতবে তা আগে থেকে বলা মুশকিল, তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস স্পেন তাদের নান্দনিকতা দিয়ে এবার ভালো কিছু করবে।”

বিশ্বকাপের মাঠে দলভেদে তারকাদের মধ্যে চুলচেরা মতপার্থক্য আর ট্রল-বিতর্ক যতই থাকুক না কেন, মেকআপ রুমের আড্ডায় সবাই একটি জায়গায় একমত—ফুটবল যেন বিশ্ববাসীকে এক সুতোয় বেঁধে দেয় এবং প্রিয় দলগুলো নিজেদের সেরা খেলা উপহার দিয়ে কোটি ভক্তের বিনোদন ও আনন্দের খোরাক জোগায়।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন