ঢাকার চক্রাকার নৌপথে আবারও চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস: নৌমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ণ
ঢাকার চক্রাকার নৌপথে আবারও চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস: নৌমন্ত্রী
ঢাকার নৌপথে চক্রাকার ওয়াটার বাস চলাচলের প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীভিত্তিক চক্রাকার নৌপথে নগরবাসীর যাতায়াত দ্রুত ও সহজ করতে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্পের বিকাশে আবারও ওয়াটার বাস চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তবে পূর্বের মতো একক সরকারি নিয়ন্ত্রণে না রেখে এবার বেসরকারি উদ্যাোক্তাদের সম্পৃক্ত করে এই সার্ভিস চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে।

আজ রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্যের কথা নিশ্চিত করেন সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

নৌমন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় রূপরেখা ও কার্যপ্রণালী চূড়ান্ত করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানো হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে নদীর গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে ওয়াটার বাস নামানো হবে।

নৌপথের বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আশুলিয়া থেকে শুরু করে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত নদীপথটির সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে নদীর কিছু অংশে কারিগরি ও নাব্যতার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পূর্বে যাত্রী সংকটের মূল কারণ ছিল সড়কপথের চেয়ে নদীপথে বেশি সময় লাগা। দেড় থেকে দুই ঘণ্টার সড়কপথের বিপরীতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগলে সাধারণ যাত্রীরা আগ্রহী হন না।”

বিআইডব্লিউটিসির অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অতীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অধীনে ওয়াটার বাস চললেও যাত্রীস্বল্পতা, নদীর তীব্র দুর্গন্ধ এবং অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের দরুন বিগত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। যার ফলে সরকারিভাবে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এবার বেশ কিছু অভিজ্ঞ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক মডেল হিসেবে এটি পরিচালনার আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা কেবল যাত্রী পরিবহন নয়, বরং পর্যটন অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেবে।”

তিনি আরও জানান, যাত্রী আকর্ষণ ধরে রাখতে প্রতি ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর ওয়াটার বাস ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে নদীর মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও আবর্জনা। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং দুই তীরের পরিবেশ সুন্দর না করলে যাত্রীরা নৌ ভ্রমণে উৎসাহী হবেন না। তাই নৌযান চালুর পাশাপাশি নদীর দৃশ্যপট ও পরিবেশ উন্নয়নের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার।

মন্তব্য করুন