‘দেশে ৬ মাসে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে’

প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ণ
‘দেশে ৬ মাসে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৬) দেশে অন্তত ২৫৭টি ধর্মীয় ও সামাজিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, এ সময়ে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৬১ জন মানুষ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, বিগত ছয় মাসে সংঘটিত ৪০টি নৃশংস ঘটনায় ৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি। ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ৬২টি ঘটনা এবং মন্দির বা উপাসনালয়ের জমি জবরদখলের ১৫টি তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সময়ে ৪৭টি বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-অগ্নিসংযোগ, ১০টি অপহরণ ও চাঁদাবাজি এবং ৯টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ সহিংসতার বাইরেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমিজমা জোরপূর্বক দখলের ২১টি ঘটনা সামনে এসেছে।

পরিস্থিতি উত্তরণে ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৮ দফা সুনির্দিষ্ট দাবিসহ সরকারের কাছে কিছু জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। জরুরি পদক্ষেপে বলা হয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানি ও গুজব ছড়ানোকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে ‘ক্ষতিকর কাজ’ হিসেবে গণ্য করে দায়ীদের নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঐক্য পরিষদের ৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জরুরি ভিত্তিতে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন, পৃথক ‘জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন’ ও ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের জটিলতা দূর করে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত এবং জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে সংখ্যালঘুদের জন্য ৬০টি সংরক্ষিত আসন রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন কর্মকার বলেন, "আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।" অন্যদিকে অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার প্রতিটি নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করবে—এই বিশ্বাস তাঁদের রয়েছে। তবে হামলা ও নির্যাতন বন্ধ না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ ও সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষুসহ বিশিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন