দাওরায়ে হাদীস পাসের পূর্ণ মূল্যায়ন চান আলেমরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা নষ্ট করে কোনো ধরনের শর্তারোপ বা নিয়ন্ত্রিত নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়া হলে তা ছাত্র-শিক্ষক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও গবেষকেরা। তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই সরকারকে কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদীস’ (মাস্টার্স সমমান)-এর পূর্ণ সরকারি স্বীকৃতি ও এর কার্যকারিতা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর মতিঝিলে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে ওলামায়ে কেরাম এই হুঁশিয়ারি দেন। ‘দাওরায়ে হাদীসের সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মাহফুজুল হক।
বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা-২০২৬-এর তীব্র সমালোচনা করে আলেমরা বলেন, এনএসডিএ কর্তৃক প্রণীত কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন লেভেল কওমি শিক্ষার সানাবিয়্যা ও ফযীলত স্তরে জোরপূর্বক ঢুকিয়ে দেওয়ার একটি সূক্ষ্ম চক্রান্ত চলছে। শিক্ষাধারা পরিবর্তনের নামে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেতর থেকে উপড়ে ফেলার এক ‘ধ্বংসাত্মক ছক’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
বৈঠক থেকে কওমি গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা অনুযায়ী দেশসেবার সুযোগ দিতে সরকারের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মডেল মসজিদ এবং সামরিক-বেসামরিক বাহিনীসহ কারাফটকের ধর্মীয় শিক্ষক ও ইমাম-খতিব পদে দাওরায়ে হাদীস পাসদের সরাসরি নিয়োগের অধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে আলিয়া ধারার স্নাতকোত্তরের মতো কওমি শিক্ষার্থীদেরও পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজ ছাড়াও অন্য যেকোনো বিষয়ে মাস্টার্স এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি করার আইনি সুযোগ দিতে হবে।
চাকরির বৈষম্য দূরীকরণের দাবি জানিয়ে ওলামারা বলেন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজের সনদ দিয়ে দেশে যেখানেই চাকরির সুযোগ রয়েছে, ঠিক সমমানের দাওরায়ে হাদীসের সনদ দিয়েও কওমি শিক্ষার্থীদের সেই সব জায়গায় বসার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া ডিজিটাল সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে সরকারি ‘MyGov’ প্ল্যাটফর্মে কওমি সনদকে ‘অ্যাপোস্টিল’ (Apostille) পদ্ধতিতে সত্যায়নের ব্যবস্থা করা এবং কাবিননামা ও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের দাপ্তরিক ফর্মে দাওরায়ে হাদীসকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন তারা।
মাওলানা মু: অছিউর রহমানের সঞ্চালনায় বৈঠকে মারকাযুদ দাওয়াহর মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, ফরিদাবাদের মাওলানা যুবায়ের আহমদ, জামিয়া কাজলার মুফতি মুঈনুল ইসলাম, মারকাযুল লুগাতিল আরাবিয়ার মাওলানা মহিউদ্দিন ফারুকী, মালিবাগ জামিয়ার মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম, দৈনিক আমার দেশের সহসম্পাদক মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব এবং দৈনিক যুগান্তরের সহসম্পাদক মাওলানা তানজিল আমিরসহ ঢাকার শীর্ষস্থানীয় ওলামা ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।
|