নোবিপ্রবিতে ভুয়া সীলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ণ
নোবিপ্রবিতে ভুয়া সীলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সনদ উত্তোলন ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে ভুয়া সীল ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত।

শিক্ষার্থীরা সনদ উত্তোলনের তথ্যের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে গেলে অভিযুক্ত শাহাদাত সুকৌশলে টাকাগুলো ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা বলে নিজের কাছে রেখে দিতেন। পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকের নকল সীল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভুয়া রশিদ প্রদান করতেন এবং সময়মতো সনদ দেওয়ার আশ্বাস দিতেন।

ওশানোগ্রাফী বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সন্দেহ থেকে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সনদ ফি বাবদ ২ হাজার টাকা নিলেও শাহাদাত তা ব্যাংকে জমা দেননি। অফিসের অন্যান্য স্টাফরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখেন যে, রশিদ থাকলেও অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা হয়নি। এছাড়া ব্যাংকের প্রকৃত সীলে ‘Cash Receive’ লেখা থাকলেও শাহাদাতের ব্যবহৃত ভুয়া সীলে ‘Cash Received’ (অতিরিক্ত d যুক্ত) লেখা ছিল। অভ্যন্তরীণ তদন্তে গত ৩ মাসে তাঁর করা এমন আরও আর্থিক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে এবং আত্মসাৎকৃত টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কন্ট্রোলার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন