সন্তানের নিরাপত্তায় মা-বাবার করণীয়: ইসলামিক দিকনির্দেশনা ও সামাজিক দায়িত্ব

প্রকাশ: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ণ
সন্তানের নিরাপত্তায় মা-বাবার করণীয়: ইসলামিক দিকনির্দেশনা ও সামাজিক দায়িত্ব

 অনলাইন ডেস্ক: একটি সন্তান কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ আমানত ও উপহার। তাই সন্তানের নিরাপত্তা এমন একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে তোলা জরুরি, যাতে সে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝতে পারে, বিপদ আঁচ করতে পারে এবং যেকোনো সংকটে নির্দ্বিধায় মা-বাবার শরণাপন্ন হতে পারে।

ইসলামে সন্তানের দৈহিক নিরাপত্তার পাশাপাশি তার ঈমান, চরিত্র, চিন্তাধারা ও নৈতিক জীবনের সুরক্ষাকে মা-বাবার অন্যতম ফরজ দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)। এছাড়া বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮২৯)।

ইসলামি জীবনাচার ও ধর্মীয় জীবনযাত্রার আরও বিশদ দিকনির্দেশনা পেতে ভিজিট করুন Quran.com-এর বাংলা তরজমা ও তাফসির পাতা।

১. ভয়ের বদলে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা

অনেক সময় সন্তান কোনো সমস্যায় পড়লেও শাস্তি বা বকুনির ভয়ে মা-বাবাকে কিছু জানায় না। ফলে তারা ভুল মানুষের কাছে পরামর্শ বা আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে বড় বিপদে পড়ে। তাই মা-বাবাকে সন্তানের সবচেয়ে বড় বন্ধু ও আস্থাভাজন হতে হবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোমলতা যে জিনিসে থাকে, তাকে সুন্দর করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৯৪)।

২. সৎ সঙ্গ নির্বাচন ও নজরদারি

কৈশোরে বন্ধুর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। খারাপ সঙ্গ সন্তানকে অপরাধ, মাদক বা সহিংসতায় জড়িয়ে ফেলতে পারে। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘মানুষ তার বন্ধুর জীবনাদর্শের ওপর থাকে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে, সে কাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮ ৩৩)।

৩. সাইবার ও অনলাইন নিরাপত্তা

ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের ভুল ব্যবহার বা ক্ষতিকর গেম শিশুর মানসিক বিকাশ নষ্ট করতে পারে। সন্তান কার সঙ্গে কথা বলছে বা কী দেখছে, গোপন গোয়েন্দাগিরির বদলে সচেতনতা ও বিশ্বাস তৈরি করে সেটির নজরদারি করা জরুরি।

৪. আল্লাহভীতি ও আমল শিক্ষা দেওয়া

সন্তানের অন্তরে ছোটবেলা থেকেই আল্লাহর সচেতনতা গড়ে তোলা সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। শিশু যদি জানে আল্লাহ তাকে সব জায়গায় দেখছেন, তবে তার বিবেক নিজে থেকেই অন্যায় থেকে দূরে থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)।

সন্তানের নিরাপত্তা শুধু একটি পরিবারের একার দায়িত্ব নয়; স্কুল, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সহযোগিতায় একটি নিরাপদ পরিমণ্ডল গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের দ্বীন ও দুনিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুন