ক্যানসার শব্দটি শুনলেই মনে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। আধুনিক সময়ে এই রোগের প্রাদুর্ভাব যেভাবে বাড়ছে, তাতে উদ্বেগ বাড়াই স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের সচেতন জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিখ্যাত চিকিৎসক ড. এরিক বার্গের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ক্যানসার প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের কোষের ভেতর থাকা ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’কে সুস্থ রাখা। মাইটোকন্ড্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলেই কোষের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যায় এবং ক্যানসারের বিস্তার ঘটে।
খাদ্যতালিকা থেকে পরিশোধিত চিনি, পরিশোধিত তেল এবং স্টার্চযুক্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দিন। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ তৈরি করে যা দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষতি করে।
শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত রোদ পোহানোর অভ্যাস করুন। রোদ থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন ডি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।
শরীরকে দীর্ঘ সময় উপবাসের অবস্থায় রাখলে মাইটোকন্ড্রিয়া পুনরুজ্জীবিত হয়। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা ধর্মীয়ভাবে সিয়াম (রোজা) পালন এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। এটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দূর করতে শরীরকে সহায়তা করে।
প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে মাইটোকন্ড্রিয়া সচল থাকে। ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং টক্সিন বা ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে যায়।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মানসিক প্রশান্তির জন্য নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং নেতিবাচক বা বিষাক্ত মানুষ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
সুস্থ জীবনধারাই হতে পারে ক্যানসারের বিরুদ্ধে আপনার প্রধান প্রতিরক্ষা। আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন।
জান্নাত/সকালবেলা