বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড বরাদ্দ; বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা ও প্রত্যাশা
স্বাস্থ্য ডেস্ক:২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার এক মেগা বাজেট ঘোষণা করেছে, যা গত অর্থবছরের ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। জিডিপির শতাংশ হিসেবে এটি এখন ১ দশমিক ০১ শতাংশ। উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করা, নতুন পাঁচটি শিশু হাসপাতাল স্থাপন এবং বিশাল সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এই পরিকল্পনাকে ঘিরে জনমনে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকলেও, বাজেট বাস্তবায়নের অতীত ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ কমছে না বিশেষজ্ঞদের মাঝে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বাজেট বিশ্লেষণ, জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য খতিয়ান’ এবং ‘হেলথ ইকোনমিকস, পলিসি মনিটরিং ও ন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল ট্র্যাকিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এবারের বাজেটের বিস্তারিত রূপরেখা ও চ্যালেঞ্জের সমীকরণ তুলে ধরা হলো।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ৪৬৩টি উপজেলা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করা এবং খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীসহ পাঁচটি অঞ্চলে নতুন শিশু হাসপাতাল তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই থোক বরাদ্দগুলো ব্যয় করার ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদনের ধাপগুলো বড় বাধা হতে পারে। ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, স্বাস্থ্যখাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর অধীনে আনা এবং একটি স্বাধীন ‘স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনই হতে পারে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারের কার্যকর মেথডলজি।
সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় (Out-of-pocket expenditure) কমানোর লক্ষ্যে সরকার চিকিৎসা সরঞ্জামাদির ওপর কর ও ভ্যাট হ্রাসের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা এবারের বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক। এই নতুন করকাঠামো অনুযায়ী:
প্রতিটি রিংয়ের খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।লেন্সপ্রতি দাম কমবে প্রায় ৫ হাজার টাকা।ফিল্টার ও টিউবিং সেটে কর হ্রাসের ফলে একজন রোগীর খরচ প্রতি সেশনে প্রায় ৮০০ টাকা কমতে পারে।দেশীয় ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের ওপর রেয়াতি সুবিধা বাড়িয়ে ওষুধ রপ্তানি ও স্থানীয় সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. নাখাওয়াত হোসেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে, সরকার এবার বরাদ্দের প্রতিটি টাকা সঠিকভাবে ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। হেলিকপ্টার অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে শুরু করে আধুনিক সরঞ্জামাদির এই জোগান সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা অনেকটা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ড. রুমানা হকের মতে, শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধিই সমাধান নয়; স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারলে এই বিপুল অর্থের সঠিক প্রভাব লক্ষ্য করা কঠিন হবে।
সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্যখাতে এই রেকর্ড বরাদ্দ যদি স্বচ্ছভাবে এবং সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় করা যায়, তবে এটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
জান্নাত সকালবেলা
|