মেসির শেষ বিশ্বকাপ: আবারো আবেগে ভাসছে বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে এক অদ্ভুত নীরব অথচ উত্তাল সময়। ঘুমন্ত শহরের ভেতরে টেলিভিশন স্ক্রিনের নীল-সাদা আভা আর চা-চক্রে জমে ওঠা আড্ডার দিনগুলো আবার ফিরেছে। কারণ মাঠে নামছেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকরের ষষ্ঠ এবং সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ মিশনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে নীল-সাদা উৎসবের আমেজ।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত ‘ফুটবল আবেগ, ক্রীড়া খতিয়ান ও বিশ্বকাপ ট্র্যাকিং উইং’-এর বিশেষ বুলেটিনে মেসি ও বাংলাদেশের মানুষের অমোঘ সম্পর্কের চিত্রায়ন করা হলো।
মেসির শেষ মিশন ও বাংলাদেশের অপেক্ষা ক্যানসাস সিটিতে আগামীকাল বুধবার সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা শুরু করছে তাদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান। স্কালোনির আর্জেন্টিনা দলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিকাংশ তারকা যেমন আছেন, তেমনি যোগ হয়েছে নতুন রক্ত। তবে পুরো বাংলাদেশের চোখ থাকবে একজন মানুষের ওপর—লিওনেল মেসি। বয়সের ভারে হয়তো গতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মেসির বাম পায়ের জাদুতে এখনো যে শিল্প লুকিয়ে আছে, তা দেখতেই ভোরবেলার অপেক্ষায় থাকে এই দেশের কোটি মানুষ।
বাংলাদেশের আবেগ ও মেসির ফুটবল বাংলাদেশে মেসির অবস্থান কেবল একজন পেশাদার ফুটবলারের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি কোনো অংক বা পরিসংখ্যান দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। রংপুর থেকে পুরান ঢাকা, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের আড্ডা থেকে শুরু করে অফিসগামী মানুষের ফোনের লাইভ স্কোর—সবই এখন মেসি-কেন্দ্রিক। ২০১৪ সালের মারাকানার সেই অসম্পূর্ণ কবিতার গল্প ২০২২ সালের লুসাইলে পূর্ণতা পেয়েছে। এবার সেই পূর্ণতা ধরে রাখার লড়াই। ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মেসিকে দেখার এই প্রতীক্ষা এখন নস্টালজিয়া আর গভীর ভালোবাসার এক মিশেল।
এক অনন্য সম্পর্কের নাম ‘মেসি’ ১১ সালে ঢাকায় মেসির পা রাখার সেই উত্তেজনা কিংবা ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের সমর্থন নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তোলপাড়—সবই প্রমাণ করে যে, এই দেশের মানুষের কাছে মেসি ঘরের কেউ। তিনি কেবল আর্জেন্টিনার অধিনায়ক নন, তিনি একেকজন ভক্তের জীবনের সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। প্রিয় তারকার বিদায়বেলায় বাংলাদেশ তাকে কোনো ট্রফি বা জয়ের চেয়েও বেশি কিছু দিচ্ছে—আর তা হলো শর্তহীন ভালোবাসা।
মেসি জিতবেন কি জিতবেন না, আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কি পারবে না, সেসব প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে। কিন্তু একটা বিষয় সুনিশ্চিত—আগামীকাল ভোরে বাংলাদেশ আবার জেগে উঠবে। কেউ চায়ের কাপে ধোঁয়া তুলবে, কেউ পুরোনো জার্সিটা গায়ে জড়াবে, আর যখন মেসি বল পায়ে নেবেন, তখন পুরো দেশ এক সুরে বলবে—মেসি, তুমি শেষবারের মতো আমাদের আরেকটি রূপকথা উপহার দাও। কারণ মেসি মানেই আমাদের বেড়ে ওঠার গল্পের এক অসম্পূর্ণ অথচ পূর্ণাঙ্গ আবেগ।
জান্নাত সকালবেলা
|