যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ তিন মাসের অস্থিরতা ও যুদ্ধের সমাপ্তি টেনে এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সমঝোতাকারী প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে (MoU) স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটানো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত করা।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ভূ-রাজনীতি ও শান্তিচুক্তি খতিয়ান’ এবং ‘গ্লোবাল কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন, মেরিটাইম সিকিউরিটি মনিটরিং ও ডিপ্লোম্যাটিক এফেয়ার্স উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই চুক্তির বিস্তারিত সমীকরণ তুলে ধরা হলো।
চুক্তির মূল বিষয়বস্তু ও প্রভাব
পাক-প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে
লেবাননসহ সংঘাতের প্রতিটি ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক কার্যক্রমের অবসান। আগামী ১৯ জুনের মধ্যে মাইন অপসারণের মাধ্যমে প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে এবং সেখানে কোনো টোল বা অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না। আগামী ৬০ দিনের মেয়াদে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। যদিও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে মন্তব্য করেনি, তবে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজের ভাষ্যমতে, চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত ও রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। যেখানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জব্দকৃত সম্পদ ছাড় ও বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রণোদনার দাবি করছে, সেখানে মার্কিন প্রশাসন কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আগে ইরানের পরিপূর্ণCompliance-এর কথা জোর দিয়ে বলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়া বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক মাইলফলক। এটি কেবল বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব আনার ক্ষেত্রে একটি জটিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে কাজ করবে।
জান্নাত সকালবেলা
|