বুলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রভার জ্বালাময়ী বার্তা
বিনোদন ডেস্ক: বাংলা শোবিজের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের মুখোমুখি হয়ে আসছেন। নিজের ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ১৬টি বছর তিনি যেভাবে এই মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে পার করেছেন, তা নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও এবার তিনি সরব হয়েছেন। নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রভা তৈরি করেছেন এক জ্বালাময়ী ভিডিও বার্তা, যেখানে তিনি আক্রমণকারীদের মানসিকতা ও সমাজের ভুল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন খতিয়ান, সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল ও সাইবার বুলিং ট্র্যাকিং উইং’-এর বিশেষ বুলেটিংয়ে প্রভার এই প্রতিবাদের বিস্তারিত সমীকরণ তুলে ধরা হলো।
বুলিংকারীদের মানসিকতা নিয়ে প্রভার বিশ্লেষণ প্রভা তাঁর ভিডিও বার্তায় সাইকিয়াট্রিস্টদের গবেষণার সূত্র ধরে বলেন, “যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় агреসিভভাবে মানুষকে জাজ করে বা ভার্বালি অ্যাবিউজ করে, তারা আসলে নিজেদের জীবনে অতৃপ্ত ও ইনসিকিউর। নিজের যোগ্যতা বা সৌন্দর্যের অভাব বোধ থেকে তারা অন্যের ওপর এই ঘৃণা ঝাড়ে।” তিনি মনে করেন, বুলিংকারীরা মূলত নিজের ব্যর্থতাকে ঢাকতেই অন্যের সফলতাকে মক (Mock) করে আনন্দ পায়, যা এক ধরণের পৈশাচিক মানসিকতা।
ভিকটিম ব্লেমিং বনাম অপরাধী শাস্তি প্রভার প্রতিবাদের সবচেয়ে জোরালো অংশ ছিল অপরাধীর দায়ভার নিয়ে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আপনারা আমাকে ১৬ বছর ধরে বুলিং করছেন। আপনারা এই বুলিংয়ের ৫০ শতাংশ যদি অপরাধীকে খুঁজে বের করার কাজে ব্যবহার করতেন, তবে আজকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কারো অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বিষয় বা প্রাইভেসি প্রকাশ করা একটি গুরুতর অপরাধ। অপরাধীর ছবি বারবার জনসম্মুখে এনে তাকে শাস্তি দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভিকটিমদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
প্রভার এই সাহসী বক্তব্য বিনোদন জগতে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। অনেকেই তাঁর এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন। ১৬ বছরের জমে থাকা ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলে প্রভা এখন যে আত্মবিশ্বাসের সাথে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনের কথা বলেছেন, তা অন্য ভিকটিমদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
জান্নাত সকালবেলা
|