শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছেন দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা করবেন: জাহেদ উর রহমান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছেন দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা করবেন: জাহেদ উর রহমান
জাহেদ উর রহমান

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে পদচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাবেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে সরকার এই জাতীয় সমস্ত অপচেষ্টা শক্ত হাতে মোকাবিলা ও প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক সার্বিক কার্যক্রম ও চলতি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, “দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত কেবল এখন কিংবা আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আগামী ডিসেম্বরের পরেও যেকোনো সময়ে পুনরায় বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পারে।”

ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতেই দেশজুড়ে এসব বিশৃঙ্খলা ছড়ানো হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “তাঁকে (শেখ হাসিনা) লাখ লাখ মানুষের তোপের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা মনে করি তিনি যতদিন বেঁচে আছেন, তাঁর এই চক্রান্ত ও অপচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে বদ্ধপরিকর।”

চলমান পোশাক শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান রাজপথ ছেড়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন, “সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর পর তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি পুনঃমূল্যায়ন করা হয়। অতীতে ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই নিয়মানুযায়ী ২০২৮ সালের আগে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের দামের কথা বিবেচনা করে তিন বছরের মাথায় নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে দিয়েছে।”

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় সীমান্তের ওপারের যোগসাজশের কথা উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করেছেন যে এসব উসকানি ও নাশকতার সাথে সীমান্তের ওপারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে প্রকাশ্যে মাঠে নামার কোনো সক্ষমতা বা জনসমর্থন না থাকলেও তাদের গচ্ছিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ছটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা ও নাশকতা সৃষ্টির হীন চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”