ইরানে মার্কিন এফ-১৫ ক্রু উদ্ধার হলেও ২টি অত্যাধুনিক বিমান ধ্বংস

ইরানে মার্কিন এফ-১৫ ক্রু উদ্ধার হলেও ২টি অত্যাধুনিক বিমান ধ্বংস

অনলাইন ডেস্ক: ইরানের অভ্যন্তরে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করতে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কমান্ডো অভিযানে সফলভাবে ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও অভিযানে ব্যবহৃত দুটি অত্যাধুনিক পরিবহন বিমান হারাতে হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে।

মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৫ এপ্রিল) এই শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কয়েকশ মার্কিন সেনা, অত্যাধুনিক যুদ্ধ হেলিকপ্টার এবং একাধিক পরিবহন বিমান অংশ নেয়। ইরানের ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে আটকে পড়া ‘ওয়েপন সিস্টেম অফিসার’ (যিনি একজন সম্মানিত কর্নেল) তাকে উদ্ধারের পর ফেরার সময় ইরানি বিপ্লবী গার্ডসের (IRGC) তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে মার্কিন বহরটি।

এসময় দুটি মার্কিন পরিবহন বিমান ইরানি বাহিনীর গোলার মুখে আটকা পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মার্কিন কমান্ডোরা অন্য তিনটি বিমানের সাহায্যে ক্রু ও সেনাদের সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও আটকে পড়া বিমান দুটিকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ইরানিরা যাতে বিমানগুলোর প্রযুক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য মার্কিন বাহিনী সেগুলো নিজেরাই ধ্বংস করে দেয়।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (IRGC) বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, "ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলটের সন্ধানে আসা একটি মার্কিন শত্রু বিমানকে ইসলামের যোদ্ধারা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।"

সফল উদ্ধারের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় বীরত্বপূর্ণ এই অভিযানের প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন:

"আমরা তাকে উদ্ধার করেছি! আমার প্রিয় আমেরিকান নাগরিকগণ, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী এক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করেছে। আমাদের একজন অসাধারণ ক্রু মেম্বার অফিসার এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।"

উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত ওই কর্মকর্তাকে বর্তমানে কুয়েতের একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযানের ভয়াবহতা এবং দুটি বিমান হারানোর বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন