ময়মনসিংহে হামের টিকা পেয়ে স্বস্তি: সরকারকে ধন্যবাদ

ময়মনসিংহে হামের টিকা পেয়ে স্বস্তি: সরকারকে ধন্যবাদ

মোঃ হুমায়ুন কবীর, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে জনমনে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মাঝে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে শিশুদের টিকা দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। 

রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিড় করেন তারা। আতঙ্ক দূর হওয়ায় বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

রোববার সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চুড়খাই ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাযিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ

উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য বলেন, "হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি সফল করতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে যেন সুশৃঙ্খলভাবে টিকা প্রদান করা হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"

টিকাদান কেন্দ্রে আসা সদর উপজেলার বড়বিলাপাড় গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়া আক্তার বলেন, "সন্তানদের নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। এখন টিকা দিতে পেরে শঙ্কা কেটে গেছে।" পনগাগড়া গ্রামের শামসুন্নাহার বলেন, "টিকা পেয়ে অনেক স্বস্তি বোধ করছি। বর্তমান সরকার এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানাই।"

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে:

  • হটস্পট এলাকা: ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল এবং ফুলপুর উপজেলাকে হামের 'হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • লক্ষ্যমাত্রা: এই তিন উপজেলায় মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

  • মজুত: চাহিদার বিপরীতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ডোজ টিকা মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সফল টিকাদান কর্মসূচি চললেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে:

  • নতুন ভর্তি: গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯ জন।

  • চিকিৎসাধীন: বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন মোট ৬৩ জন শিশু।

  • সুস্থতা ও মৃত্যু: চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২২৪ জন ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৬ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন।

প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, দ্রুত এই টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সংক্রমণের হার দ্রুতই নেমে আসবে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন