ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর: দিনাজপুরের হাকিমপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভেটেরিনারি সার্জন) ডা. শফিউল ইসলাম (৩৯)-কে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তার অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার সূত্র ধরে ডা. শফিউল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
বিয়ের প্রলোভন ও বিচ্ছেদ: ডা. শফিউল বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সরকারি কোয়ার্টারে নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাকে স্বামী তালাক দিতে চাপ দেন। গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ওই নারী তার স্বামীকে তালাক দেন।
বিয়ে ও গর্ভপাত: অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডা. শফিউল তাকে গর্ভপাত করানোর চাপ দেন এবং একই দিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
গোপনে তালাক: বিয়ের মাত্র কয়েকদিন পর, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডা. শফিউল ওই নারীকে গোপনে তালাক দেন, যা ভুক্তভোগী ১৬ ফেব্রুয়ারি পোস্ট অফিসের নোটিশের মাধ্যমে জানতে পারেন।
গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে ডা. শফিউল তাকে ফোন করে প্রাণিসম্পদ অফিসে ডেকে নেন। সেখানে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অফিস কক্ষেই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বর থেকে ডা. শফিউলকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আটক ডা. শফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ