বাঘাইছড়িতে ৪ কিমি সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক অনিয়ম, সাংবাদিকদের হুমকি

বাঘাইছড়িতে ৪ কিমি সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক অনিয়ম, সাংবাদিকদের হুমকি

মো. ইমরান হোসেন, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাচালং বাজার থেকে লাইল্যাঘোনা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির "GOV Maintenance" প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কার্পেটিংয়ে কারচুপির প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকদের হুমকি ও হেনস্তা করার ঘটনাও ঘটেছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কের গার্ডওয়াল নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। সিমেন্টের পরিমাণ এতটাই কম যে, হাত দিয়ে টান দিলেই ইট উঠে আসছে। এছাড়া কার্পেটিংয়ের ক্ষেত্রেও চলছে বড় ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৫ মিলিমিটার পুরুত্ব থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মিলিমিটার। রাস্তার ধুলোবালি ও ময়লা পরিষ্কার না করেই তার ওপর বিটুমিন ঢেলে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি টেকসই হওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্পটি মেসার্স আয়ান এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ হলেও কাজটি সরাসরি দেখাশোনা করছেন বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে কাজটিতে অনিয়ম করা হচ্ছে। এছাড়া আব্দুল মাবুদের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে ঠিকাদারি করারও অভিযোগ রয়েছে।

কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন আব্দুল মাবুদের ভাগিনা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুর উদ্দীন রাজু। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “এ বিষয়ে আর কথা বললে আমার চোখের পর্দা উল্টে গেলে তখন অনেক সমস্যা হয়ে যাবে।” তিনি সাংবাদিকদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে অশোভন আচরণ করেন এবং ভবিষ্যতে শ্রমিকেরাও কোনো প্রশ্ন তুললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।

অনিয়ম চলাকালে এলজিইডির কোনো প্রকৌশলীকে স্পটে দেখা যায়নি। উল্টো উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাজু আহমেদ ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে প্রতিবেদককে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, পিচের ওপর ডিজেল ঢেলে খোঁচা দেওয়ার কারণে কার্পেটিং উঠে গেছে। পরে তিনি ফোন কেটে দেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

তবে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কাজ বুঝে নেওয়ার পরই বিল প্রদান করা হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে ঠিকাদারের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।”

সরকারি অর্থের এমন অপচয় এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে অসদাচরণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন