ঝিনাইদহে মাদ্রাসার নামে প্রতারণা, অর্থ সংগ্রহে সক্রিয় এজেন্ট চক্র

ঝিনাইদহে মাদ্রাসার নামে প্রতারণা, অর্থ সংগ্রহে সক্রিয় এজেন্ট চক্র

মোঃ বাপ্পি শেখ, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে 'তালিমুল মিল্লাত হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং'-এর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দিন ধরে ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে এজেন্টের মাধ্যমে এই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে।

অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য: তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গয়েশপুর এলাকায় মাদ্রাসাটির নামে একটি ছোট কক্ষ ভাড়া নেওয়া হয়েছে। বাইরে সাইনবোর্ড ও পোস্টার লাগানো থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনো শিক্ষা কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কক্ষের ভেতরে একটি চৌকি, কয়েকটি ফ্রিজ ও কিছু কোরআন শরীফ রাখা থাকলেও কোনো ছাত্র বা শিক্ষককে সেখানে দেখা যায়নি।

মাদ্রাসার ভর্তি খাতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ২০২২ সালের পর থেকে সেখানে নতুন কোনো ছাত্র ভর্তি হয়নি। ওই বছরও কাগজে-কলমে মাত্র একজন ছাত্রের তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযুক্তদের আচরণ: এ বিষয়ে চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত আতাউলের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অদ্ভূত দাবি করা হয় যে, তিনি ধর্মীয় বিষয় জানেন বলেই 'ধর্ম বেচে খান'। সাংবাদিকরা তাকে অন্য কোনো হালাল পেশায় যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

একই চক্রের আরাপপুর এলাকার এজেন্ট জামালের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থে তিনি বিলাসিতায় গা ভাসিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনিও পালিয়ে যান।

এলাকাবাসীর দাবি: স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই চক্রের অধীনে ২০-২৫ জন এজেন্ট রয়েছে যারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা বলে প্রতিদিন বড় অংকের টাকা সংগ্রহ করে। এই টাকা মাদ্রাসার কাজে না লেগে চক্রের সদস্যদের পকেটে যাচ্ছে।

ধর্মের নামে এমন প্রতারণা ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন