জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন: ড্রাম-বোতলে বন্ধ ডিজেল বিক্রি

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন: ড্রাম-বোতলে বন্ধ ডিজেল বিক্রি

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশমুখী তেলের দুটি জাহাজ নির্ধারিত সময়ে আসছে না। এ কারণে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পেট্রোল পাম্পগুলোকে চাহিদার ১০ শতাংশ কম ডিজেল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ‘তেল পাওয়া যাবে না’ আতঙ্কে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তেল বিক্রি ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্ববাজারে তেলের সংকট দেখা দেবে। ফলে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়বে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাপট যত বাড়ছে, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাও ততই প্রকট হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসাবাহী ট্যাঙ্কারের যাতায়াত কার্যত বন্ধ। এতে এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কিছু পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, গত দু-তিন দিন ধরে বেশির ভাগ ক্রেতা ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন। এতে মজুত দ্রুত কমে গেছে। গতকাল সকাল সাড় ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে রাজধানীর দুটি কেন্দ্রে বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা যায়। মিরপুর-২ নম্বর সনি মোড় সংলগ্ন একটি পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের লম্বা সারি দেখা যায়। রাইড শেয়ারিং চালক সালাম মিয়া জানান, পকেটে টাকা না থাকলেও জমানো টাকা দিয়ে আজ ফুল ট্যাঙ্ক তেল নিয়েছেন। পাম্পটিতে ড্রাম বা বোতলে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

কল্যাণপুরের পাম্পগুলোতেও যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ছিল। আসাদগেট সংলগ্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। মজুত কমে যাওয়ায় এক পর্যায়ে পাম্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিজয় সরণির একটি স্টেশনে গাড়ির সারি প্রায় ৩৫০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা গেছে। কালশীর একটি স্টেশনে সব ধরনের তেল ও এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, চলতি মাসে এলএনজির দুটি কার্গো দিতে পারবে না বলে জানিয়েছে কাতার এনার্জি। স্পট মার্কেট থেকেও বিকল্প কোনো বিক্রেতা পাওয়া যায়নি। ১৫ মার্চের পর দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট ও রেশনিং শুরু হতে পারে। সচিবালয়ে এক বৈঠকে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ধাক্কা বাংলাদেশে চলে এসেছে। তাই তেল ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ডিজেলের মজুত আছে মাত্র ৯ দিনের। দৈনিক চাহিদার চেয়ে বর্তমানে এক হাজার টন বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২২ ডলারের বেশি বেড়েছে। প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের লোকসান এখন ৪০ টাকার বেশি। দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতে তেল পাচারের শঙ্কাও করছে জ্বালানি বিভাগ।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন