প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই পথ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই পথ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, "টেকসই আবাসন বলতে আমরা কেবল একটি ঘরকে বুঝি না; নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন, উন্নত গণপরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগসহ মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পরিবেশই হলো টেকসই আবাসন। সব নাগরিকের জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সহজ নয়, তবুও বিশ্বমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এই চ্যালেঞ্জ পার করতেই হবে।"

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত 'বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬'-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, "আমাদের শহর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি বাড়ছে। ঢাকা শহর এখন অতিরিক্ত জনবহুল (ওভার পপুলেটেড) এবং অন্যান্য বড় শহরের চিত্রও প্রায় একই। এমন পরিস্থিতিতে 'সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ' ধারণাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবায়ন ততটা সহজ নয়। তবে নাগরিকদের সংবিধান স্বীকৃত এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।"

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার হলো সুপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বাসস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন থেকে বেরিয়ে এসে সারা দেশকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সরকার ঢাকার আশপাশে ‘সেকেন্ডারি টাউনশিপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই সঙ্গে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা (স্পেশিয়াল প্ল্যানিং) প্রবর্তন করা হচ্ছে। প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হচ্ছে।"

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও সহজ করার পাশাপাশি গ্রামে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দিয়ে নগরে মানুষের ঢল কমানোর কৌশলও সরকার হাতে নিয়েছে।

আবাসন খাতে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, "প্রকৃতি ও পরিবেশ বজায় রেখেই বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ এবং নির্দিষ্ট শিল্পাঞ্চল জোনিংয়ের কাজ চলছে।"

একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সরকারের একার পক্ষে নগরের আবাসন সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন। তাই আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্লকভিত্তিক পরিবেশবান্ধব টেকসই নগর গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

পরিকল্পিত পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অচিরেই 'সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান' দেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি সুন্দর বাস্তবতায় রূপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।