কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিহত ৪ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে বৃহস্পতিবার

প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ণ
কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিহত ৪ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে বৃহস্পতিবার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উন্নত কর্মসংস্থানের স্বপ্ন নিয়ে কম্বোডিয়া গিয়ে চীনা সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে পাচারের শিকার হওয়া ঝিনাইদহের সোহাগ আহাম্মেদসহ চার বাংলাদেশির মরদেহ আগামী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশে ফিরছে।

পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওইদিন সকাল ১১টা ৫ মিনিটে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘এমএইচ-১০২’ নম্বর ফ্লাইটে কম্বোডিয়া থেকে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছাবে।

নিহতদের বিবরণ অনুযায়ী, ঝিনাইদহের সোহাগ আহাম্মেদ (২৩) ২০২৫ সালের এপ্রিলে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়পত্র নিয়েই কম্বোডিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে দেশটিতে নামার পর প্রতারক চক্র তাঁকে কৌশলে চীনা নিয়ন্ত্রিত একটি গোপন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে রেখে দাসত্বের মতো খাটায়। পরবর্তীতে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

একইভাবে চুয়াডাঙ্গার তরুণ আসিফ খান (২৪) জনশক্তি ব্যুরোর বৈধ ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া পৌঁছান। সেখান যাওয়ার তিন মাসের মাথায় গত ২৮ মার্চ তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। এ ছাড়া বাকি দুজন মৃত ব্যক্তি হলেন বগুড়ার জুয়েল হোসেন (৫৩) এবং ফরিদপুরের মো. শাহনাজ তালুকদার। তাঁরা দুজনেই কম্বোডিয়ার ওই ধরনের অন্ধকার কার্যক্রমে পাচার ও আটক হয়ে নির্মম পরিস্থিতিতে প্রাণ হারান।

চার বাংলাদেশির কফিনবন্দী মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনায় তাদের স্বজনদের দীর্ঘ ব্যাকুলতার অবসান ঘটলেও, এটি বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে ভয়াবহ মানবপাচারের চিত্রটি নতুন করে উন্মোচন করেছে।

সংশ্লিষ্ট অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিএমইটির মতো সরকারি সংস্থা থেকে বৈধ ছাড়পত্র পাওয়ার পর কীভাবে একজন কর্মী কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে পাচার হয়ে গেলেন? একই সাথে এই চারজন বাংলাদেশির মৃত্যুর আসল কারণ কী ছিল এবং সেখানে তাঁদের সাথে ঠিক কী ধরনের অন্যায় ঘটেছিল—তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি উঠেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে সাম্প্রতিক সময়ে আইটি চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের অনলাইন প্রতারণা ও স্ক্যাম সেন্টারে জিম্মি করার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর বন্ধ করার পাশাপাশি বিদেশে যাওয়া কর্মীদের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা না গেলে এমন ট্র্যাজেডি পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে।