মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানি কোম্পানির ১০ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি

প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ণ
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানি কোম্পানির ১০ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি

অনলাইন ডেস্কঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌঅবরোধের মতো বৈরী পরিস্থিতি সত্ত্বেও বিশাল অংকের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘পার্সিয়ান গাল্ফ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ গ্রুপ’ (পিজিপআইজি)। গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানি করে ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সির’ বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইরান সরকারের কাছে জমা দেওয়া সাম্প্রতিক এক বার্ষিক প্রতিবেদনে পিজিপআইজি জানিয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধকালীন নানামুখী প্রতিকূল পরিস্থিতি সফলভাবে সামলে উঠে প্রতিষ্ঠানটি এখন ‘দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মুনাফার’ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট বা প্রকৃত মুনাফা পৌঁছেছে ১৮৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন তোমানে (প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার)। যা এর আগের অর্থবছরের প্রাপ্ত মুনাফার তুলনায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। লাভজনক এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পণ্য উৎপাদনও বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ টন।

নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক অবরোধের মুখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেন পরিচালনা প্রসঙ্গে পিজিপআইজি জানিয়েছে, তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাণিজ্যিক যুদ্ধ ও সামুদ্রিক নৌঅবরোধের মতো চরম সংকটময় দিনগুলোতেও কোম্পানিটির বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রম একদিনের জন্যও থমকে যায়নি; বরং তা সার্বক্ষণিক চালু ছিল। অর্জিত এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদ্যমান ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর বিকল্প পথ ব্যবহার করেই সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের’ (আইআরজিসি) অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভাগকে পরোক্ষ আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ২০১৯ সালে পিজিপআইজি-র ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন প্রশাসনের সেই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ফার্সি জায়ান্ট।