ভিটে আছে ঘর নেই: চার মেয়েকে নিয়ে আশ্রয়হীন সুফিয়া

প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ভিটে আছে ঘর নেই: চার মেয়েকে নিয়ে আশ্রয়হীন সুফিয়া

নূর আহাম্মদ পলাশ (কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি): বিশ্বজুড়ে যখন নিরাপদ আবাসন ও বাসস্থানের অধিকার নিয়ে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হচ্ছে, ঠিক সেই সময় কিশোরগঞ্জে নিজের ভিটেমাটিতেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন সুফিয়া আক্তার নামে এক বিধবা। স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে হারানো এই নারী অভিযোগ করেছেন, নিজের নামে জমির সঠিক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও দেবর ও স্বজনদের বাধা, হুমকি এবং বেআইনি দখলের কারণে তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। চার মেয়ের পরিবার নিয়ে বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া আক্তারের দাবি, দীর্ঘ আট বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। একপর্যায়ে তাঁর মূল বসতঘর ভেঙে মালামাল সরিয়ে তাঁকে ভিটেমাটি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

রোববার (৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সুফিয়ার বসতঘরটি যেখানে ছিল, সেখানে একটি নতুন টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সুফিয়ার অভিযোগ, তাঁর দেবর নিজাম উদ্দিন ঘরটি নির্মাণ করেছেন এবং বাড়ির প্রবেশপথে টিনের গেট দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ফলে তিনি নিজের ভিটেমাটিতে ঢুকতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, চৌদ্দশত মৌজার বিআরএস ২৫-২৪৯৩ নম্বর খতিয়ানে সুফিয়া ও তাঁর চার মেয়ে রেবা সুলতানা, মালা আক্তার, রত্না আক্তার ও স্বপ্নার নামে ৩০ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুফিয়া আক্তার বলেন, "কাগজে আমার ৩০ শতাংশ জমি থাকলেও বাস্তবে ২ শতাংশ জায়গায় ঘর করার সুযোগ পাচ্ছি না। ঘর ভেঙে মালামাল লুট করা হয়েছে এবং ভিটায় ঢুকলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।" তিনি দেবর নিজাম উদ্দিন, চাচাতো দেবর হারিছ মিয়া ও নিজাম উদ্দিনের জামাতা মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে দেবর নিজাম উদ্দিনের দাবি, উক্ত জমিতে সুফিয়ার কোনো অধিকার নেই। অন্যদিকে তাঁর জামাতা মামুন মিয়া বিদ্রূপ করে জানান, আদালতের পেছনে ঘুরে সুফিয়ার কোনো লাভ হবে না।

বিষয়টি নজরে আসার পর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ সরেজমিনে পরিদর্শনের পর ইউপি চেয়ারম্যানকে মীমাংসার নির্দেশ দেন। চৌদ্দশত ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতাহার আলী জানান, একাধিকবার সালিশ বৈঠকে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সুফিয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করেছে।

কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী দোলন কুমার আচার্য্য নিশ্চিত করেন, আইনি ও দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী সুফিয়া জমির বৈধ মালিক হলেও প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে ঘর তুলতে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রশাসনের মধ্যস্থতা ও আদালতের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে সুফিয়াকে বাস্তুচ্যুত করার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ব বসতি দিবসে একজন অসহায় বিধবার নিজ ভিটায় ফেরার অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এআইএল/সকালবেলা