নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ণ
নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কক্সবাজার সার্কিট হাউসে মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • মাদক নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্সের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ 
  • চোরাচালানের রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন 
  • কারবারির সাথে বাহকদেরও চিহ্নিত করার উদ্যোগ
  • সীমান্ত ও উপকূলে বাড়ছে নজরদারি 

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কক্সবাজারে সীমান্ত ও জলপথ ব্যবহার করে চালানে যুক্ত থাকা মাদক চোরাচালানের ‘মূল হোতাদের’ কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা সামাজিক পক্ষপাত ছাড়াই সম্পূর্ণ ‘নির্মোহভাবে’ শনাক্ত করে একটি সমন্বিত তালিকা প্রস্তুতের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

একই সাথে মাদক পাচারের রুটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নতুন ক্যাম্প স্থাপন, বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীপথে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের যৌথ টহল জোরদার এবং চোরাচালানের বাহকদের (ক্যারিয়ার) চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের হিল ডাউন সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে এসব কঠোর সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মাদক ব্যবসার পেছনে যারা প্রকৃত অর্থদাতা ও মূল হোতা হিসেবে সক্রিয়, বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগৃহীত হচ্ছে। সংগৃহীত তালিকার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে আমাদের সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ধ্বংসাত্মক ইয়াবাসহ নানা মাদকের গ্রাসে আমাদের সম্ভাবনাময় যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। তাই যেকোনো মূল্যে মাদকের প্রসার রুখে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার।”

সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের নাফ নদী, পাহাড়ী সীমান্ত এবং বিস্তৃত বঙ্গোপসাগরের জলপথকে কেন্দ্র করে মাদক পাচারের পুরো আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নেটওয়ার্ক শনাক্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সমতলের পাশাপাশি জলপথেও নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক পেট্রোলিং ও টহল জোরদার থাকবে। শুধু চুনোপুঁটি বাহকদের গ্রেফতার না করে শীর্ষ কারবারিদের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে সমন্বিত এই টাস্কফোর্স কার্যক্রম শুরু করছে।

উল্লেখ্য, দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে আজ সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার পৌঁছান। সফরের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন ও ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন।

পরবর্তীতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বিকেলে সুধীজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন