প্রথম ম্যাচ ড্র করলে কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজিল
নিজস্ব প্রতিবেদক:বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের শুরুটা আশানুরূপ হলো না। উত্তর আমেরিকার মেগা মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর রক্ষণভাগের কাছে আটকে গেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একক নৈপুণ্যে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে সেলেসাওরা। তবে এই মাঠের পয়েন্ট হারানোর চেয়েও এখন ব্রাজিলিয়ান শিবিরে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের এক অদ্ভুত অভিশাপ, যা সেলেসাও ভক্তদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
আজ রবিবার (১৪ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল, বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গন ও বিশ্বকাপ উন্মাদনা খতিয়ান’ এবং ‘ফুটবল পরিসংখ্যান, ট্যাকটিক্যাল অ্যানালাইসিস ও রেকর্ড কর্নার উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাস ও তার ভবিষ্যৎ প্রভাবের পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফুটবল ইতিহাসের এই অনন্য পরাশক্তি নিজেদের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর কখনোই শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি। এবারের ২০২৬ আসরের আগে ব্রাজিলিয়ানরা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরও তিনবার নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি বা ড্র করে মাঠ ছেড়েছিল। প্রথমবার ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য (০-০) ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল তারা। এরপর ১৯৭৮ সালের আসরে সুইডেনের বিপক্ষে এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের পূর্বসূরিরা।
ইতিহাসের খতিয়ান বলছে, এই তিনটি আসরের একটিতেও সেলেসাওরা ফাইনালের মঞ্চে উঠতে বা শিরোপা জয় করতে সক্ষম হয়নি। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল আসর শেষ করেছিল চতুর্থ স্থান নিয়ে। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে তারা তৃতীয় স্থান পেয়ে সান্ত্বনা নিয়ে দেশে ফেরে। আর ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল হেক্সা মিশন প্রত্যাশীদের। ফলে মরক্কোর বিপক্ষের এই ১-১ গোলের সমতা অতীতের সেই ব্যর্থতার স্মৃতিকেই আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলছে।
প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের ট্র্যাজেডির বিপরীতে ব্রাজিলের ঘরে যে পাঁচটি সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফি এসেছে, তার প্রতিটির শুরুর ইতিহাস ছিল একদম ভিন্ন এবং শতভাগ জয়ে মোড়ানো। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২—এই পাঁচটি আসরেই সেলেসাওরা তাদের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে অনায়াসে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। এবং কাকতালীয় বা পারফরম্যান্সের জোরেই হোক, প্রতিবারই তারা টুর্নামেন্টের শেষ দিনে ট্রফি হাতে বিজয়ের উল্লাস করেছে। ফলে প্রথম ম্যাচের জয়ই যেন ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের প্রধান নিয়ামক বা মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।
তবে ফুটবলের পণ্ডিত ও বিশ্লেষকেরা মনে করেন, খাতার কলমের বা কাগজের পরিসংখ্যান দিয়ে ফুটবল মাঠের বর্তমানের ফলাফল সবসময় নির্ধারিত হয় না। কার্লো আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে এই ব্রাজিল দলে বিশ্বমানের একঝাঁক তরুণ তারকা রয়েছেন, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিয়ে ব্রাজিলের এই নতুন প্রজন্ম অতীতের কুফা বা অস্বস্তিকর রেকর্ড ভেঙে নতুন কোনো ইতিহাস গড়তে পারবে কি না, তা দেখার জন্য আপাতত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ফুটবল বিশ্ব।
জান্নাত সকালবেলা
|