আমতলীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নথিসহ বই পোড়ানোর অভিযোগ
পিএম সাজ্জাদ শরীফ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবিরের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের গত ২০ বছরের নতুন ও পুরাতন বই এবং আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মাঠে তিনি এই কাণ্ড ঘটান। দুর্নীতির মামলার আলামত নষ্ট করতেই এই নথি ও বই পোড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গত ২০ বছরের নতুন ও পুরাতন বই এবং কিছু আসবাবপত্র একটি ভবনে সংরক্ষিত রাখা ছিল। আজ সোমবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবির একক সিদ্ধান্তে সেই ভবনে থাকা সমুদয় বই ও আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিদ্যালয় এলাকা কালো ধোঁয়ায় একাকার হয়ে যায়। আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া ও জান্নাতি জানায়, “প্রধান শিক্ষক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক নতুন ও পুরাতন বই আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল, আমাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রধান শিক্ষক কাউকে না জানিয়ে সরকারি বই পুড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সেই দুর্নীতির গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও নথিপত্র নষ্ট করতেই তিনি বইয়ের সাথে এসব পুড়িয়ে ফেলেছেন।” তাঁরা তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অনুমতি ছাড়া বই পোড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবির বলেন, “উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পুরাতন বই ও ভাঙা আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলেছি। কোনো নতুন বই পোড়ানো হয়নি।” তবে প্রশাসন বা ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন নিয়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার মো. গোলাম মাহমুদ সেলিম বলেন, “বই পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে কিংবা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে আগে থেকে কিছুই অবহিত করেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ের বই পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি শুনেছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এআইএল/সকালবেলা
|