ফরিদপুরে গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৬ লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ২০ কেজি গাঁজাসহ চারজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১০। 

আজ বুধবার (১০ জুন) গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (৯... গভীর রাতে জেলার মধুখালী উপজেলার বেল্লাকান্দি এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে ৯ কেজি গাঁজাসহ মনির হোসেন ওরফে রুবেল (২৬) ও আমির হোসেন (২৪) নামের দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। উদ্ধারকৃত এই মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এর আগে, গত সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায় র‍্যাব। সেখানে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশিকালে একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস থেকে সাড়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এই চালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোস্তফা কামাল (২৭) ও রাশেদুল ইসলাম (২৬) নামের আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার উত্তর মিলনপুর এলাকায়।

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত চারজনই একটি সুসংগঠিত আন্তঃজেলা মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মরণনেশা মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুর, মাগুরা এবং এর আশপাশের জেলাগুলোর খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করে আসছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত অঞ্চল থেকে মহাসড়ক ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনের প্রবণতা রুখতে হাইওয়ে পুলিশ ও র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যার সুফল হিসেবে বড় বড় চালান হাতেনাতে জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।

র‍্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, “মাদক সমাজের জন্য একটি মারাত্মক ব্যাধি ও ভয়ংকর হুমকি। এটি আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে। মাদকের বিস্তার রোধে র‍্যাব সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অনুসরণ করে আসছে। সমাজকে নিরাপদ রাখতে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর চিরুনি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন