বন্ধের মুখে বগুড়ার ৮ বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া: তীব্র শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বগুড়ার আটটি বেসরকারি ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদান অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহারের কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৮ জুনের মধ্যে বোর্ডের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের আওতাধীন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী যেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না, মূলত সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম চিরতরে বন্ধের পাশাপাশি পাঠদান অনুমোদন বাতিলের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তালিকায় সারা দেশের মধ্যে বগুড়ার আটটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো— ১. বনানী এলাকার বগুড়া টেকনোলজিকাল ইনস্টিটিউট ২. শিববাটি এলাকার কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ৩. কানুছগাড়ী এলাকার বগুড়া ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ৪. শাকপালা এলাকার বগুড়া সেন্ট্রাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ৫. শিববাটি এলাকার একাডেমিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট ৬. শেরপুর উপজেলার শেরউড পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ৭. শালফা টেকনোলজিকাল ইনস্টিটিউট ৮. খেজুরতলা মাল্টিপারপাস অ্যান্ড হায়ার পলিটেকনিক
কারিগরি বোর্ড থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে উল্লেখ্যযোগ্য কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম গভীর পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই চরম ব্যর্থতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি কার্যক্রম ও পাঠদানের অনুমোদন কেন চিরতরে বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১৮ জুনের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে হবে।
বোর্ড সূত্র আরও জানায়, কেবল বগুড়াই নয়, সারা দেশের মোট ১৪৭টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একই ধরণের শিক্ষার্থী সংকটের দায়ে কারণ দর্শানোর (শোরকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর উপবিধি ৫.৪ অনুযায়ী—ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি ও গ্রন্থাগারসহ অনুমোদনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড যেকোনো সময় পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে।
এদিকে, তালিকাভুক্ত বগুড়ার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের অফিসিয়াল ও দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এআইএল/সকালবেলা
|