খালিয়াজুরীর সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ণ
খালিয়াজুরীর সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

মহসিন মিয়া, নেত্রকোনা: নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পানির বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। আজ ২ জুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা শিক্ষা কার্যালয়। এর আগে ১ জুন এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে খালিয়াজুরী উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে পৌঁছায়। উক্ত চিঠিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আগামী দশ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ মে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাটি দায়ের করা হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।” খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদরও জানান যে, তদন্তে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার সত্যতা পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুগ্ধ তালুকদার (১১) মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। তার বাবা-মা ঢাকায় কর্মরত থাকায় সে স্থানীয় নানার বাড়িতে থেকে রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে দুপুরে বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করার সময় শিক্ষক কাউসার আহমেদ তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে পানির বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একাধিকবার জ্ঞান হারানো, বমি ও কান দিয়ে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মামা বাদী হয়ে খালিয়াজুরী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “মামলার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে পরবর্তীতে আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ মারধরের কথা স্বীকার করলেও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, শিক্ষার্থী অতিরিক্ত দুষ্টুমি করায় তাকে কেবল শাসন করা হয়েছিল, কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়নি।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন