আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ বিভাগের এক বিশেষ সরেজমিন প্রতিবেদনে ঈদের ছুটি পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসের এই চিরচেনা ঢিলেঢালা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের আমেজ কাটিয়ে আজ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে এসে পৌঁছান। তবে অনেককে আবার দূরপাল্লার যাতায়াত ঝামেলার কারণে সকাল ১০টার পরও অলস ভঙ্গিতে অফিসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কোরবানি ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবীদের অনেকেই আবার ঢাকার বাসায় না গিয়ে সরাসরি নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে লঞ্চ, বাস বা ট্রেনে চড়ে সরাসরি অফিসে এসে হাজিরা দিয়েছেন।
সচিবালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিভাগ যেমন— জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ফ্লোরগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কর্মচারীরা সকাল সকাল অফিসে এলেও তারা নিজেদের নির্ধারিত ডেস্কে বা কক্ষে খুব কম সময়ই বসেছিলেন। দীর্ঘ সাতদিন পর সহকর্মীদের সাথে দেখা হওয়ায় তারা মূলত একে অপরের সাথে কোলাকুলি, ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।
সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, যারা ঢাকার বাইরে দূর-দূরান্তে সপরিবারে ঈদ করতে যান, তারা সাধারণত সরকারি সাধারণ বা নির্বাহী আদেশের ছুটির সঙ্গে নিজেদের অর্জিত বা নৈমিত্তিক ছুটি আলাদা করে যুক্ত করে নেন। আর এই বিশেষ কারণেই প্রতি বছর দুই ঈদের পর প্রথম কয়েকদিন সচিবালয়সহ দেশের বড় বড় সরকারি দফতরে উপস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা বাড়তি সময় লেগে যায়। কর্মচারীদের ধারণা, চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও উপস্থিতি এমন কিছুটা কম থাকতে পারে এবং আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, দেশের প্রধান ‘ব্যাংকপাড়া’ হিসেবে খ্যাত রাজধানীর মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আজ সকাল থেকেই সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান শাখাগুলো খোলা থাকলেও কর্মকর্তা ও গ্রাহক উভয়ের উপস্থিতিই ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। অনেক বিভাগের টেবিলে কর্মকর্তাদের চেয়ার সম্পূর্ণ খালি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। গ্রাহক না থাকায় প্রথম দিনে ব্যাংকের সাধারণ কাউন্টারগুলোতে লেনদেনও হয়েছে বেশ সীমিত পরিসরে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্টসহ বিভিন্ন আদালত পাড়াতেও আজ প্রথম দিনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের তেমন একটা ভিড় চোখে পড়েনি।
উল্লেখ্য, এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৫ মে থেকে শুরু করে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাতদিন দেশজুড়ে সাধারণ বা বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দীর্ঘ আনন্দময় অবকাশ শেষে আজ জুন মাসের প্রথম দিনে কর্মজীবী মানুষরা ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়ে আবার চিরচেনা যান্ত্রিক কর্মব্যস্ত জীবনে প্রবেশ করলেন।
জান্নাত সকালবেলা