সামনে কঠিন সময়, হেসেখেলে চলে গেলে বড় ক্ষতি হবে: তারেক রহমান

প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ণ
সামনে কঠিন সময়, হেসেখেলে চলে গেলে বড় ক্ষতি হবে: তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশিত পথে দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সফল সরকার গঠন করাই তাঁর প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার (৩১ মে) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সামনে একটি অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় অপেক্ষা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়ে হেসেখেলে চলে গেলে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ক্ষতি দেশের হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হবে।”

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন ও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সরকার সেই ধারায় দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে। বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের সামনে যে পরিকল্পনা বা ম্যানিফেস্টো তুলে ধরা হয়েছিল, তা দেখে এবং বুঝে দেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে।

পিতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি পারিবারিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, “শৈশবে একদিন বাড়ির একজন কর্মচারীকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করলে শহীদ জিয়া বিষয়টি জানতে পারেন এবং আমাকে কান ধরে সেই কর্মচারীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। এই ঘটনাটি আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষার একটি বিষয়।” দেশে ফেরার পর মূল্যবোধের অভাব অনুভব করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মুরব্বিদের শ্রদ্ধা করা, অসহায়কে সহযোগিতা করা এবং বিনয়ীভাবে কথা বলার মতো মূল্যবোধগুলো আগামী প্রজন্মের মধ্যে কীভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে তিনি তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

শহীদ জিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে তারেক রহমান ১৯৮৬ সালে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনকালের এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেখানে এক ইন্দোনেশীয় ব্যক্তি ‘বাংলাদেশ’ নাম শুনেই ‘জিয়াউর রহমান’ বলে ওঠেন। মানুষ শহীদ জিয়া বা বাংলাদেশ বললে দুটোকে একসঙ্গেই বুঝতো এবং সন্তান হিসেবে পিতার জন্য সেদিন তিনি গর্ব অনুভব করেছিলেন বলে জানান।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের ৫২ শতাংশ ভোটার ধানের শীষে ভোট দিয়ে যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি আর শুধু বিএনপির ইশতেহার নয়, এটি এখন জনগণের ইশতেহার। খাল খনন কর্মসূচি, শিক্ষার প্রসার, গার্মেন্ট শিল্পের আদলে নতুন শিল্প বিপ্লব, বন্ধ কল-কারখানা চালু এবং নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ডের মতো শহীদ জিয়ার প্রতিটি পথনির্দেশিকা এই ইশতেহারে গ্রহণ করা হয়েছে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, কেবল ২১৪ জন এমপি বা ৫০ জন মন্ত্রী একা পরিশ্রম করলেই কার্যক্রম সফল হবে না। সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন মাঠে নেমে কাজ করবেন, তখনই সফলতা আসবে।

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সফল আন্দোলন করেছিলাম। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সফল নির্বাচন পার হয়ে এসেছি। এখন আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফল সরকারের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারলেই শহীদ জিয়ার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে সক্ষম হবো।”

মন্তব্য করুন