বিনোদন ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’-এর লাল গালিচায় (Red Carpet) উপস্থিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড কুইন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। উৎসবে তাঁর পরিহিত পোশাক, বর্তমান শারীরিক গঠন ও মুখের অবয়ব নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ নানাবিধ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের পাশাপাশি তীব্র ‘বডি শেমিং’ (Body Shaming)-এর জোয়ারে ভাসিয়ে দেন অভিনেত্রীকে। এমন এক সংবেদনশীল ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ঐশ্বরিয়ার সম্মানের পক্ষে এবং এই নোংরা ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে শক্ত প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের আরেক কিংবদন্তি ও জনপ্রিয় ড্যান্সিং ডিভা মাধুরী দীক্ষিত।
আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ১১টা ৪২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে সর্বশেষ আপডেট করা এক বিশেষ বিনোদন প্রতিবেদনে দুই শীর্ষ অভিনেত্রীর এই পারস্পরিক সংহতি ও ট্রোলারদের কড়া জবাব দেওয়ার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ‘পিটিআই’ (PTI)-কে দেওয়া এক সাম্প্রতিক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ট্রোলারদের ধুয়ে দিয়ে মাধুরী দীক্ষিত বলেন, “ঐশ্বরিয়ার মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের বৈশ্বিক তারকাকে শুধুমাত্র বাহ্যিক চেহারা, শারীরিক গঠন কিংবা বয়সের সংখ্যার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা কোনোভাবেই ঠিক নয় এবং এটি অত্যন্ত সস্তা মানসিকতা।” মাধুরীর মতে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে অত্যন্ত সুনামের সাথে এককভাবে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন ঐশ্বরিয়া এবং প্রতিবারই দেশের জন্য অনন্য গৌরব ও আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে এনেছেন।
ঐশ্বরিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে মাধুরী তাঁর স্বভাবসুলভ মার্জিত ভাষায় বলেন, ‘একজন সফল মানুষের দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারের সাফল্য, বৈশ্বিক অবদান ও অনন্য ব্যক্তিত্বকে কখনো শরীরের ওজন, পোশাকের মাপ বা বয়সের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার ফ্রেমে বন্দি করে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। ঐশ্বরিয়া শুধু তাঁর বাহ্যিক বিশ্বমোহিনী রূপ বা সৌন্দর্যের জন্যই বিশ্বখ্যাত নন, বরং তাঁর মার্জিত ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন মানবিক গুণাবলির জন্যও তিনি সবসময় আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ প্রশংসার দাবিদার।’
মাধুরী দীক্ষিত আরও যোগ করে বলেন, “বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে যেসব আজেবাজে মন্তব্য বা বডি শেমিং করা হচ্ছে, তা আমাদের যুব সমাজে একটি অত্যন্ত ভুল ও নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে আমাদের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মনে এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হতে পারে যে— একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য কেবল তাঁর বাহ্যিক চেহারা বা লুকে ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল, তাঁর জীবনের বড় বড় অর্জন বা মেধার কাজের ওপর নয়। এই ধরনের উপরিউক্ত মানসিকতা সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং তা দ্রুত পরিবর্তন করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।”
ইন্টারনেট ও বর্তমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অপব্যবহার প্রসঙ্গেও এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট কথা বলেছেন মাধুরী। তাঁর বাস্তবসম্মত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সমাজে নেতিবাচক বা অন্যকে টেনে নিচে নামানোর মতো সমালোচনামূলক মানুষ সব যুগেই ছিল। তবে বর্তমান আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সহজলভ্যতার কারণে এখন যেকোনো সাধারণ মানুষ খুব সহজেই নিজের ভালো-মন্দ মতামত প্রকাশ করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছেন। আর ঠিক এই কারণেই ইন্টারনেটে যেকোনো নেতিবাচক ও বিষাক্ত মন্তব্য বা ট্রোল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত ও অনায়াসে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, যা কারো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও সুখকর নয়। ওপার বাংলার জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর অফিশিয়াল সূত্র থেকে এই খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জান্নাত সকালবেলা