বিনোদন ডেস্ক : দুই বাংলার রূপালী পর্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুণী অভিনেত্রী জয়া আহসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বরাবরই বেশ সক্রিয়। তাঁর অভিনীত সমসাময়িক নতুন কাজ, রাজকীয় জীবনযাপন কিংবা ফিটনেস ধরে রাখার নান্দনিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাধারণ ভক্ত-অনুরাগীদের কৌতূহলের যেন কোনো শেষ নেই। সম্প্রতি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে চমৎকার একটি ভিডিও শেয়ার করে চট্টগ্রামের সুপ্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী বিশেষ খাবার ‘মধুভাত’ খাওয়ার একেবারে নতুন এক অভিজ্ঞতা ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন এই ওয়ানাড়ী তারকা। তবে ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় প্রকাশের পর থেকেই জয়ার মধুভাত খাওয়ার বিশেষ ধরণ এবং এই আঞ্চলিক খাবারটি নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে তৈরি হয়েছে বেশ মিশ্র আলোচনা ও সমালোচনা।
আজ সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জয়া আহসানের মধুভাত উৎসব ও নেটপাড়ার প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশিত ও ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রকৃতির ছোঁয়ায় সতেজ এক সবুজ রঙের আকর্ষণীয় পোশাকে সেজে টেবিলের সামনে বেশ উৎফুল্ল মেজাজে বসে আছেন জয়া আহসান। আর তাঁর সামনের টেবিলের ওপর একটি মাটির পাত্রে অত্যন্ত চমৎকার ও নান্দনিকভাবে সাজিয়ে রাখা রয়েছে চট্টগ্রামের চাটগাঁইয়া ঐতিহ্যের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার মধুভাত। জয়া আহসান ভিডিওর শুরুতেই ভক্তদের উদ্দেশ্যে জানান, অনেক বছর ধরে এই খাবারের নাম শুনলেও জীবনের এবারই প্রথম তিনি নিজে এই বিশেষ ঐতিহ্যবাহী খাবারটি সরাসরি চেখে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই চাটগাঁইয়া খাবারটির আসল রেসিপি ও বিবরণ দিতে গিয়ে জয়া বলেন, এটি মূলত আমাদের অঞ্চলের এক ধরণের বিশেষ ‘ফারমেন্টেড রাইস’ (Fermented Rice) বা বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা এক প্রকার মিষ্টি ভাত। যা সাধারণত পোলাওয়ের চাল, বিশেষ জ্বালা চাল (অঙ্কুরিত ধানের চাল), কচি নারকেল কোড়া, খাঁটি নারকেলের ঘন দুধ এবং সামান্য মধুসহ আরও বেশ কিছু দেশীয় উপকরণ দিয়ে সারা রাত ধরে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয়।
ভিডিওর পরের অংশে দেখা যায়, পাত্রের পাশে একটি বড় কাঠের চামচ রেডি রাখা থাকা সত্ত্বেও, জয়া প্রথমে সেই চামচ দিয়ে মাটির পাত্র থেকে নারকেলের নিখুঁত খোলের তৈরি একটি ছোট সুন্দর বাটিতে পরিমাণমতো মধুভাত তুলে নেন। তবে এরপর বাটি থেকে খাওয়ার সময়ে তিনি চামচটি একপাশে রেখে দিয়ে সরাসরি নিজের হাত ব্যবহার করে চাটগাঁইয়াদের মতোই সেই ডেজার্ট জাতীয় মিষ্টি খাবারটি মুখে তুলে নেন। খাবারটি মুখে দিয়েই তাঁর চোখে-মুখে দারুণ এক তৃপ্তির আভাস ফুটে ওঠে এবং তিনি এই মিষ্টি ভাতের স্বাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ভিডিওর কমেন্ট বক্সে জয়ার এই পোস্টটির নিচে নেটিজেনরা মুহূর্তের মধ্যেই নানা রকম রসাত্মক ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। চট্টগ্রামের এই বিশেষ আঞ্চলিক খাবারের আদি বৈশিষ্ট্য মনে করিয়ে দিয়ে চাটগাঁর এক স্থানীয় ভক্ত মন্তব্য করেছেন, “চট্টগ্রামের ট্র্যাডিশনাল এবং আদি খাবার এই মধুভাত। তবে আপা, এটা খেয়ে কিন্তু শরীর একটু ম্যাজমেজ করবে আর ভারি ঘুম ঘুম ভাব হবে, সাবধানে থাকবেন।”
তবে জয়া আহসান টেবিলে আধুনিক চামচ থাকা সত্ত্বেও চটচটে এই ডেজার্ট হাত দিয়ে খাওয়ার কারণে অনেক নেটিজেনই বিষয়টিকে বাঁকা চোখে দেখেছেন এবং তাকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। জয়াকে কটাক্ষ করে একজন লিখেছেন, “টেবিলে তো চামচ একদম রেডিই ছিল। সাধারণ মানুষ হলে চামচ দিয়েই খেতো। আসলে স্রেফ ভিডিওর ভিউ আর স্টান্টবাজির কারণে উনি হাত দিয়ে খেয়ে বোঝাতে চাচ্ছেন যে সে কত বড় খাঁটি বাঙালি!”
এদিকে ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড এবং প্রকৃতির সবুজ গাছপালার সাথে অভিনেত্রীর পরিহিত সবুজ পোশাকের অদ্ভুত মিল দেখে রসিকতা করে আরেকজন লিখেছেন, “একদম প্রকৃতির শরীরের সাথে ম্যাচিং কালার ড্রেস পরেছেন আপা।” সব মিলিয়ে জীবনের প্রথমবার চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নেওয়ার জয়ার এই নান্দনিক ভিডিওটি যেমন ভক্তদের বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে, ঠিক তেমনি চামচ বর্জন করে ডেজার্ট জাতীয় তরল খাবার হাত দিয়ে চটকে খাওয়ার কারণে নেটপাড়ায় এক বড়সড় সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা