শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জগঠন শুনানি আজ

প্রকাশ: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জগঠন শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই মামলার অভিযোগ বা চার্জগঠনের (Framing of Charges) বহুল প্রতীক্ষিত শুনানি আজ সোমবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে অংশ নিতে মামলার প্রধান আসামি ঘাতক সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রীকে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আইন-আদালত’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে আদালত প্রাঙ্গণের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও মামলার বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আদালত ও পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিজ্ঞ বিচারকের এজলাসে আসামিদের কাঠগড়ায় সশরীরে উপস্থিত রেখে আজ এই ভাগ্য নির্ধারণী শুনানি সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা সিএমএম আদালত সূত্র জানায়, আজ সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় একটি বিশেষ প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পুলিশ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত সুনির্দিষ্ট অপরাধের চূড়ান্ত অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত সেদিনই পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে তা আমলে নেন এবং মামলাটি পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে দ্রুততম সময়ে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আদেশ দেন।

খুন ও ধর্ষণের রোমহর্ষক বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি আবাসিক বাসা থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। এই বর্বরোচিত ও নৃশংস ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের পৈশাচিক অপরাধ স্বীকার করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেয় প্রধান আসামি সোহেল রানা।

পুলিশ দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্ত শেষে আদালতের ডকে যে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে, তাতে মূল আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে শিশুটিকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে সরাসরি ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ভয়াবহ অপরাধের তথ্য-প্রমাণ গোপন করা, লাশ গুমের চেষ্টা এবং আলামত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার চেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ তথা প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় নিহত শিশু রামিসার পিতা, সুরতহালকারী চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশীসহ মোট ১৮ জনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী করা হয়েছে। আজ বিজ্ঞ আদালতে উভয়পক্ষের আইনি লড়াই এবং অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়েই মূলত এই নির্মম ও বর্বরোচিত শিশু হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া গতি লাভ করতে যাচ্ছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন