অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে: রিজভী

প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ
অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে ইসলামীতে আশ্রয় নিয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ রোববার (৩১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এই সভার আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, “উনারা (জামায়াতে ইসলামী) বড় বড় কথা বলছেন, টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে। তো নিজেদের দিকে একবার তাকান। মিরেরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা—একজনের নাম জাহাঙ্গীর আরেকজনের নাম রবিউল। ফেনীতে মামলার থেকে অব্যাহতি দেবে বলে এক নেতা, সে আবার ‘জামায়াতের রোকন’, তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে সেটাও পত্রপত্রিকায় এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে সেটাকে ‘হাদিয়াবাজি’ বা ‘ইয়ানতবাজি’র মতো আরবি শব্দ ব্যবহার করে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। বহু জায়গায় প্রমাণ আছে যে ধমক দিয়ে থ্রেড করছেন। ধর্মের নামে রাজনীতি করেন, সব নাকি পবিত্র মানুষ। কিন্তু এখানে যেমন তারা ছাত্রলীগের মধ্যে, আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে গুপ্ত রাজনীতি করেছে, তেমনি অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে।”

বিএনপির সাংগঠনিক ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে রিজভী বলেন, “৫ আগস্টের পর বিএনপির মধ্যেও এই ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড হয়েছে। তবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, শোকজ করা হয়েছে। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি। কিন্তু জামায়াতের অধিকাংশ ‘রোকন’ সদস্য ও নানা স্তরের লোক অভিযুক্ত হওয়ার পর, যখন পত্রিকায় এসেছে তখন আপনারা বহিষ্কার করেছেন। তাহলে যেগুলো ধরা পড়েনি, তারা তো দলের মধ্যেই আছে। তাহলে ফেরেশতা হয়ে গেলেন কী করে?”

জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু জামায়াতকে পছন্দ করে না। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করা যেমন মানুষ পছন্দ করে না, তেমনি ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।”

সাংস্কৃতিক চর্চা নিয়ে জাসাসের উদ্দেশে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আমাদের নিজস্ব মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে কোনো পরাশক্তি বা আগ্রাসী শক্তি যে ষড়যন্ত্র করবে, সেটাকে প্রতিহত করার দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর।”

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জাসাস নেতা লিয়াকত আলী লাকি, ফেরদৌস ফকির প্রমুখ।

মন্তব্য করুন