আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রোববার (১০ মে) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় দিবস উপলক্ষে মস্কোয় আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে চলমান ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, “আমার মনে হয় বিষয়টি শেষের দিকে যাচ্ছে।” তবে দীর্ঘ এই সংঘাতের জন্য কিয়েভ সরকারকে পশ্চিমা দেশগুলোর অন্ধ সমর্থনের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। পুতিন দাবি করেন, পশ্চিমা শক্তিরা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সংঘাত উসকে দিয়েছিল, যা বর্তমানে এক গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় এবারের বার্ষিক সামরিক কুচকাওয়াজ ছিল কিছুটা সীমিত। ইউক্রেনের সম্ভাব্য ড্রোন হামলার আশঙ্কায় আগের মতো বড় কোনো ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শেষ মুহূর্তে হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কুচকাওয়াজ সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনের আগে বিজয় দিবসের মূল ভাষণে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধকে রাশিয়ার জন্য একটি ‘ন্যায্য যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইউক্রেন একটি আগ্রাসী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যাকে পুরো ন্যাটো জোট অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে সহায়তা করছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং পুতিনের আজকের এই মন্তব্য ইউক্রেন সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। তবে কিয়েভ ও পশ্চিমা মিত্ররা এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এখনই কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তা দেখার বিষয়।