আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে কোণঠাসা করতে ইরানকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ও জ্যাম-প্রতিরোধী ড্রোন সরবরাহের এক গোপন পরিকল্পনা করেছিল রাশিয়া। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ রুশ গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর তৈরি করা ১০ পৃষ্ঠার একটি গোপন নথি উদ্ধৃত করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
নথি অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে ৫ হাজার স্বল্পপাল্লার ‘ফাইবার-অপ্টিক’ ড্রোন এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক দূরপাল্লার স্যাটেলাইট-নিয়ন্ত্রিত ড্রোন সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই ড্রোনগুলো ফাইবার অপটিক তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘জ্যামার’ বা বেতার তরঙ্গ নিরোধক ব্যবস্থা এগুলোকে শনাক্ত বা অকেজো করতে পারে না। ইউক্রেন যুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়া অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে।
নথিতে থাকা ডায়াগ্রাম ও মানচিত্র অনুযায়ী, রাশিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ল্যান্ডিং ক্রাফট ও ধীরগতির নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের হুমকি দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই রুশ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া কেবল অস্ত্র নয়, বরং জনবল তৈরিরও প্রস্তাব দিয়েছিল। রাশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার ইরানি শিক্ষার্থীকে ড্রোন অপারেটর হিসেবে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে নথিতে। এছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’ টার্মিনালযুক্ত ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহারের পথও বাতলে দিয়েছিল রুশ গোয়েন্দারা।
জিআরইউ-এর প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ইরানকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করলে এবং সেই সহায়তা অস্বীকার করার (Plausible Deniability) সুযোগ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়েও মার্কিন বাহিনীর বড় ক্ষতি করা সম্ভব।
যদিও এই ড্রোনগুলো ইতিমধ্যে ইরানের হাতে পৌঁছেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সম্প্রতি লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে এ ধরনের ড্রোন পাওয়া যাওয়ায় গোয়েন্দাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নথি প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেকাতে রাশিয়া ও ইরান এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ।