আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমায় একটি শক্তিশালী জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত এই পরীক্ষায় একটি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। জাপানের এই পদক্ষেপে এশীয় অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন।
কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মহড়ায় জাপানি বাহিনী দুটি ‘টাইপ-৮৮’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দক্ষিণ চীন সাগরে উপকূল থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। টোকিও এবং ম্যানিলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ‘শান্তিবাদী’ অবস্থান থেকে দ্রুত সরে আসছে। গত মাসে তাকাইচি সরকার প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানির ওপর থাকা দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। মহড়াটিতে প্রথমবারের মতো জাপানের যুদ্ধকালীন বিশেষ সেনাদল অংশ নিয়েছে। উল্লেখ্য, এই ১৯ দিনব্যাপী মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ সাতটি দেশের প্রায় ১৭ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
জাপানের এই সামরিক সক্রিয়তায় বেইজিং কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে চীন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, যেখানে তিনি বলেছিলেন—চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করলে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।
বুধবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, "আগ্রাসনকারী দেশ হিসেবে জাপান তাদের অতীতের অপরাধের জন্য অনুশোচনা করেনি। উল্টো তারা এখন নিরাপত্তা সহযোগিতার নামে বিদেশে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। এটি জাপানি কট্টরপন্থীদের পুনরায় সামরিকীকরণের পথে আরও একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ।"
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাপান এখন কেবল আত্মরক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিপক্ষকে পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা অর্জনে জোর দিচ্ছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ই কুয়াং হেং-এর মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জাপান ও ফিলিপাইন উভয়ের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।