ক্রীড়া ডেস্ক: ফুটবল রাজপুত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনার মহাপ্রয়াণের রহস্যের জট যেন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি তাঁর কন্যা জিয়ানিন্না এক বিস্ফোরক জবানবন্দিতে বাবার শেষ দিনগুলোর যে চিত্র তুলে ধরেছেন, তা বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জিয়ানিন্নার মতে, অভিযুক্ত সাত জন চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই ম্যারাডোনাকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
জিয়ানিন্না সরাসরি ম্যারাডোনার তৎকালীন ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোল্ডো লুকিকে এই অবহেলার প্রধান কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনাকে যে নার্সদের দেখাশোনা করার কথা ছিল, তাঁরা কেউই ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি। এমনকি তদন্তকারী দলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, একটি ভাড়া বাড়ির বিছানায় ম্যারাডোনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা ফেলে রাখা হয়েছিল, যেখানে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জিয়ানিন্নার দাবি অনুযায়ী, এই পুরো পরিস্থিতি আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছিলেন পোমারগো নামক এক ব্যক্তি, যিনি ম্যারাডোনার আইনজীবী মোরলার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসা দলের প্রতিটি সদস্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছিলেন এবং ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার পরও তাঁরা বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
আদালতে পেশ করা বিভিন্ন অডিও বার্তায় দেখা গেছে, পরিচর্যাকারীরা যখন বুঝতে পেরেছিলেন ম্যারাডোনা মারা যেতে পারেন, তখন তাঁরা ম্যারাডোনাকে বাঁচানোর পরিবর্তে নিজেদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অডিওতে শোনা গেছে, অভিযুক্তরা একে অপরকে বার্তা দিচ্ছেন যে কীভাবে তাঁরা জেল-জরিমানা থেকে বাঁচতে পারেন।
জিয়ানিন্না বলেন, “অভিযুক্তরা কখনোই ভাবেনি যে প্রসিকিউটররা এত দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বা তাঁদের ফোন জব্দ করা হবে।” বাবার একাকী মৃত্যু আর চারপাশের মানুষের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার বিচার চেয়ে এখন আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছেন ফুটবল ঈশ্বরের এই কন্যা।