ইসরায়েলি হামলায় হামাস নেতা খলিল আল-হায়ার চতুর্থ ছেলের মৃত্যু

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলি হামলায় হামাস নেতা খলিল আল-হায়ার চতুর্থ ছেলের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন মধ্যস্থতায় গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হায়ার ছেলে আজম আল-হায়া নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা বাসিম নাইম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাসিম নাইম জানান, বুধবার রাতে ইসরায়েলি হামলায় আজম আল-হায়া গুরুতর আহত হন এবং আজ বৃহস্পতিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, নির্বাসিত এই হামাস নেতার এটি চতুর্থ সন্তান যিনি ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন। এর আগে ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে গাজায় এবং গত বছর দোহায় ইসরায়েলি হামলায় তাঁর আরও তিন ছেলে নিহত হয়েছিলেন। খলিল আল-হায়া নিজেও একাধিকবার ইসরায়েলি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছেন।

এই হামলা এমন এক সময়ে হলো যখন কায়রোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বিশেষ দূত নিকোলে ম্লাদেনভের সাথে হামাস নেতারা গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা করছেন। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিল আল-হায়া অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে চাইছে।

তিনি বলেন, "এই জায়নবাদী হামলা ও লঙ্ঘন স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে দখলদার বাহিনী কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি পরিকল্পনার শর্ত মেনে চলতে চায় না।"

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজা শান্তি পরিকল্পনাটি গৃহীত হয়। এর মূল শর্ত ছিল—গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠন শুরু করা। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, চুক্তির প্রথম ধাপের বাধ্যবাধকতাগুলো ইসরায়েল পুরোপুরি পালন না করা পর্যন্ত তারা দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে কোনো আলোচনায় যাবে না। এদিকে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী তাদের ৪ জন সেনা নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে তারা বরাবরই দাবি করে আসছে যে, হামলাগুলো শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বন্ধ করতেই চালানো হয়।


মন্তব্য করুন