দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ণ
দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক শ্রমবাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে অদক্ষ কর্মীর পরিবর্তে সম্পূর্ণ দক্ষ ও কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর ওপর বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘অভিবাসী সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম’ (ওকাপ) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বর্তমানে প্রতিযোগিতা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। যার ফলে এখন আর শুধু অদক্ষ বা আধাদক্ষ কর্মী পাঠিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল বা রেমিট্যান্স পাওয়া যাচ্ছে না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সরকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে জাতীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান— দেশে বর্তমানে ১০৪টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) সচল রয়েছে, যেখানে ৫৮টি ভিন্ন ভিন্ন ট্রেডে প্রবাসগামীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে সব কেন্দ্রের সুযোগ-সুবিধা এখনো সমান নয়। কোনো কোনো কেন্দ্রে অবকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে, আবার কোথাও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণার্থীর অভাব দেখা যাচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যেসব ট্রেড বা কাজের আন্তর্জাতিক চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেসব কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ সুবিধাকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা এবং অবকাঠামো নিশ্চিত করতে আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হবে।”

নুরুল হক নুর আরও বলেন, “বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান একটি বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। আমরা যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারি, তবে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আমাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পরিমাণ অনেক গুণ বেড়ে যাবে।”

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “কেবল মধ্যপ্রাচ্যের চিরাচরিত দেশগুলোর ওপর নির্ভর না করে আমরা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ও বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছি। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই আমাদের কর্মীরা যেন বিদেশে গিয়ে ভালো মানের কাজ ও সম্মানজনক বেতন পান।”

উক্ত সম্মেলনে ওকাপের শীর্ষ কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রবাসীদের নানাবিধ সমস্যা ও তা উত্তরণের উপায় নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

মন্তব্য করুন