পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ ৯ মে

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ ৯ মে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকারের রাজকীয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের শপথ গ্রহণের দিনটি বাঙালি সংস্কৃতির আবেগ ও ঐতিহ্যবাহী দিন—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর (২৫শে বৈশাখ) সাথে মিলে যাওয়ায় অনুষ্ঠানটিতে যোগ হচ্ছে এক বিশেষ ভিন্ন মাত্রা।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) কলকাতায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, “আগামী ৯ মে সকাল ১০টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আমাদের নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।”

পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এর আগে কোনো মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীসভাকে রাজভবনের বাইরে গিয়ে এভাবে খোলা ময়দানে বা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মতো বিশাল জনসমুদ্রে শপথ নিতে দেখা যায়নি। ফলে বিজেপির এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিচ্ছেন। একই সাথে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে যে, নতুন বিজেপি সরকার তার প্রশাসনিক কাজকর্ম বিদায়ী তৃণমূল সরকারের তৈরি করা ‘নবান্ন’ ভবনের পরিবর্তে পুরোনো ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘মহাকরণ’ (Writers' Buildings) থেকেই পরিচালনা করতে পারে।

বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV) জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের এই প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বশরীরে উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা এবং বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই মেগা ইভেন্টে যোগ দেবেন।

নির্বাচনের আগে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন একজন খাঁটি বাঙালি—যিনি বাংলায় জন্মেছেন, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন এবং অনর্গল বাংলা ভাষায় কথা বলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্রেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিপুল ভোটে পরাজিত করা এবং বিগত দিনে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করা শুভেন্দু অধিকারীই এই মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাচ্ছেন। যদিও পরিষদীয় দলের বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ৪ মে ঘোষিত হওয়া ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের (ভোট হওয়া ২৯৩টি) মধ্যে বিজেপি একাই ২০৭টি আসনে বিশাল জয় পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর বিপরীতে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন