বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ইস্যুতে দেওয়া অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ করে আণায়, নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Haven) হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ হঠাৎ করেই কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা নিচে নেমে আসে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের (Reuters) তথ্যানুযায়ী, স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬২২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ দিনের শুরুতে এর দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই আকস্মিক পতনের মাধ্যমে স্বর্ণের টানা চার দিনের দরবৃদ্ধির যে প্রবণতা ছিল, তা থমকে গেল। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমে এসেছে।

গত ১৯ মার্চের পর থেকে স্বর্ণের বৈশ্বিক বাজার যখন নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই ট্রাম্পের একটি ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কার জানান— যুক্তরাষ্ট্র ইরানে তার আগ্রাসী সামরিক হামলা চালিয়ে যাবে এবং দেশটি তাদের ‘প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জনের একদম শেষ পথে রয়েছে। ট্রাম্পের এই অনড় বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার আশা করা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম হতাশ হয়েছেন, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে পণ্য বাজারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ও ভারী ধাতুর দামও আজ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম এক দিনেই ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৭১ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অটোমোবাইল শিল্পে ব্যবহৃত প্ল্যাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্ববাজারে দাম এক দফায় অনেকটা কমে যাওয়ায় এশিয়ার বৃহত্তম স্বর্ণের বাজার ভারতে মূল্যবান এই ধাতুর খুচরা চাহিদা ও কেনাবেচা কিছুটা বেড়েছে। তবে এর ঠিক বিপরীতে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক দেশ চীনের ক্রেতারা স্থানীয় বাজারে দাম আরও কমতে পারে— এমন আশায় কেনাকাটা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখায় সেখানে কেনাবেচায় কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।

মন্তব্য করুন